• বৃহঃ. এপ্রি ১৬, ২০২৬

Sakaler Kagoj

The Most Popular News Portal

বিলুপ্তির পথে মানদাদা আমলের শস্য সঞ্চয়ের স্থান ‘ধানের গোলা’

সেপ্টে ১২, ২০২০

বাংলার মাটি কতটা উর্বর তা আমাদের কারোও অজানা নেই। গ্রাম বাংলার কৃষক-কৃষানীরা একসময় তাদের ফলানো শস্য, বিশেষ করে ধান জমা করে রাখতেন ধানের গোলায়।

‘গোলা ভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু আর পুকুর ভরা মাছ’- এই প্রবাদ বাক্যের গোয়ালে গরু আর পুকুরে মাছ থাকলেও আর নেই সেই গোলা ভরা ধান। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী হাতে গড়া বাঁশের তৈরী ধানের গোলা একসময় আপামর মানুষের কাছে ব্যাপক চাহিদা থাকলেও কালের বিবর্তনে তা প্রায় বিলুপ্তির পথে।

একসময় সমাজের নেতৃত্ব, সম্মান, আভিজাত্য নির্ভর করত এই ধানের গোলার ওপর। ধানের বিশাল বিশাল গোলা সেসময়ে একমাত্র ধনাঢ়্য ব্যক্তিবর্গ অর্থাৎ জমিদার কিংবা মহাজনদের কাছেই থাকতো। গ্রামবাংলার সমৃদ্ধির প্রতীক ধানের গোলা কয়েক দশক আগে দৃশ্যমান থাকলেও কালের বিবর্তনে তা বিলুপ্তপ্রায়।

ধানের গোলা তৈরীতে প্রথমে বাঁশ-কঞ্চি দিয়ে গোল আকৃতির কাঠামো তৈরি করা হতো। এরপর এঁটেল মাটির কাদা দিয়ে ভেতরে ও বাইরে আস্তরণ লাগিয়ে সবশেষে ওপরে টিন বা খড়ের চালা দিয়ে তৈরি করা হতো গোলা। কিছুকিছু ক্ষেত্রে বর্গ বা আয়তক্ষেত্র আকারেও গোলা তৈরি করা হতো।

ধানের গোলা মাটি থেকে খানিকটা উঁচুতে বসানো হতো। প্রবেশপথ রাখা হতো বেশ ওপরে। গোলায় শুকানো ভেজা ধানের চাল হতো শক্ত। কৃষকের কাছে এটিই ছিলো ধান রাখার আদর্শ পন্থা। বর্তমানে পাল্টে গেছে গ্রামবাংলার এ চিরাচরিত রূপ। নানা কারণে গোলায় আর ধান সংরক্ষণ করতে পারছেন না কৃষক। বাজারে গোলার বিকল্প হিসেবে এসেছে পাটের বস্তা। ফলে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ধানের গোলা আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

bitcoin mixer