• বুধ. জুলা ৮, ২০২৬

Sakaler Kagoj

The Most Popular News Portal

ব্র্রহ্মপুত্রের তান্ডবে আধাঘন্টায় নিঃস্ব ২৫ পরিবার

জুন ৩০, ২০২৬ #কুড়িগ্রাম, #চিলমারী

সাওরাত হোসেন সোহেল, চিলমারী:
ব্রহ্মপুত্রের থাবায় মুহূর্তের মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছে ভিটামাটি। মাত্র ৩০ মিনিটের ব্যবধানের চিলমারী ইউনিয়নের বিশারপাড়ার ২৫ পরিবার হারালো ভিটামাটি ও সাজানো সংসার। বছরের পর বছর যায়, থামে না ভাঙ্গনের তান্ডব, ভাঙ্গন রোধে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহন না করায় প্রতি নিয়ত ভিটামাটি হারিয়ে মানুষ হচ্ছে নিঃস্ব। বিলিন হচ্ছে ফসলি জমি কমে যাচ্ছে খাদ্যের উৎপাদন। উজানের ঢলে আবারো দেখা দিয়েছে চিলমারীতে ভাঙ্গনের তান্ডব। ভিটামাটিসহ সাজানো সংসার হারিয়ে মানববেতন জীবন যাপন করছেন ভাঙ্গন কবলিত এলাকার মানুষজন। নামে মাত্র প্রতি বছরের ন্যায় ভরা নদীতে জিও ব্যাগ ফেলানো হলেও নেয়া হচ্ছে দুর্নীতির আশ্রয়।
জানা গেছে, উজানের ঢলে আবারো কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাঙ্গনের তীব্রতা দেখা দিয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের তীব্র গ্রাসে মুহূর্তের মধ্যে বিলিন হচ্ছে ভিটামাটি, সহায়-সম্পত্তি। প্রবল ভাঙ্গনের কারনে উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের শাখাহাতি, কড়াইবড়িশাল, বিশারপাড়াসহ বেশকিছু গ্রামের ভিটামাটি বিলিন হচ্ছে ব্রহ্মপুত্রের পেটে। শুধু তাই নয় ব্রহ্মপুত্রের থাবায় ইতি মধ্যে বিদ্যুতিক খুটিসহ শতশত হেক্টর জমি কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে বিলিন হয়ে গেছে এছাড়াও হুমকিতে পড়েছে মনতোলা, ঢুষমারা প্রাথমিক বিদ্যালয়, কড়াইবড়িশাল নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, কড়াইবরিশাল বাজার, আশ্রয়কেন্দ্রসহ বেশকিছু সরকারী স্থাপনা।
এদিকে সোমবার সকালে ভাঙ্গনের তীব্রতার কারনে প্রায় ৩০ মিনিটে বিশারপাড়া এলাকার ২৫টি পরিবার হারিয়েছে তাদের সাজানো গোছানো সংসার। গত কয়েকদিকে ভাঙ্গনের শিকার হয়ে বেশকিছু পরিবার ভিটামাটি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে করছে মানবেতন জীবন যাপন।
আতিকুর, আনসার, হামিদসহ অনেকে বলেন, ব্রহ্মপুত্র কেড়ে নিলো ভিটামাটি আমরা হারালাম সাজানো সংসার, লাখ লাখ টাকা সম্পদ গেল নদীতে তাহলে কেমন থাকবো ভাই।
লাল মিয়া, শাহিন ও ফুলু মিয়া বলেন, হামার সম্পদ যায় নদীতে আর হামরা ত্রাণ দিয়ে কি করমো, নদী ভাঙ্গন রোধ হলে আমাদের পক্ষ থেকেই সাহায্য করতে পরমো ইনশাআল্লাহ।
চিলমারী ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, গত দুই বছর থেকে ভাঙ্গনের তীব্রতা বেড়ে বিলিন হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে বারবার যোগাযোগ করে ভালো ফল পাইনি এছাড়াও লক্ষ লক্ষ টাকা সরকারী সম্পদ বিদ্যুতের খুটি ভেসে গেলেও কর্তৃপক্ষের কোন উদ্যোগ নেই ফলে প্রায় ৪শতাধিক মানুষ বিদ্যুৎহীন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহমুদুল হাসান বলেন, আমি সরেজমিন গিয়েছিলাম ইতি মধ্যে ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী দেয়া হয়েছে এছাড়াও ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলা হয়েছে।

bitcoin mixer