• সোম. জুলা ৬, ২০২৬

Sakaler Kagoj

The Most Popular News Portal

কক্সবাজার সৈকতের সাময়িক ব্যবসায়ী কার্ড বাতিল

সকালের কাগজ ডেস্ক:
বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি। সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে সকল সাময়িক ব্যবসায়ীর কার্ড বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ২০২৬–২০২৭ অর্থবছর থেকে কোনো সাময়িক ব্যবসায়িক কার্ড নবায়ন কিংবা নতুন করে ইস্যু করা হবে না বলেও জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি জারি করা এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি জানায়, মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের রিট মামলার আদেশ, কার্ডের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং পরিবেশ সংরক্ষণসংক্রান্ত বিভিন্ন সরকারি নির্দেশনার আলোকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সৈকতের বালিয়াড়িতে অপরিকল্পিতভাবে দোকান, অস্থায়ী স্থাপনা ও অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ কারণে সৈকতের প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণে প্রশাসন এবার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা কার্যালয়ের ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখের ১৯৪ নম্বর পত্র এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখের ৩৪৪ নম্বর পত্রে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে পরিচালিত সাময়িক ব্যবসা কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এসব নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি সৈকতকে অবৈধ স্থাপনা ও অনিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যিক কার্যক্রমমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

ঘোষণায় স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের কোনো অংশে ভবিষ্যতে নতুন করে কোনো সাময়িক ব্যবসায়িক কার্ড ইস্যু করা হবে না। বর্তমানে যেসব সাময়িক কার্ডধারী ব্যবসায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, তাদের কার্ডের মেয়াদ ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে শেষ হয়েছে এবং ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জন্য এসব কার্ড আর নবায়ন করা হবে না। এ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের গত ১ জুন ২০২৬ তারিখে ২০৭ নম্বর পত্রের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।

বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সাময়িক অনুমতির সুযোগ নিয়ে অনেক ব্যবসায়ী বালিয়াড়িতে স্থায়ী বা আধা-স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করেছেন, যা অনুমোদনের শর্তের পরিপন্থী। এতে সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি উপকূলীয় পরিবেশ, বালিয়াড়ির স্বাভাবিক গঠন এবং জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। তাই পরিবেশ রক্ষা এবং আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের স্বার্থে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

এ পরিস্থিতিতে সৈকতে অবস্থানরত সকল সাময়িক ব্যবসায়ীকে দ্রুত নিজ দায়িত্বে দোকান, স্টল, ছাউনি এবং অন্যান্য অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে না নিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের পরিবেশ সংরক্ষণ, বালিয়াড়ির প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং পর্যটকদের জন্য আরও পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে অবৈধ দখল ও অনিয়ন্ত্রিত স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

bitcoin mixer