• সোম. জুন ২৯, ২০২৬

Sakaler Kagoj

The Most Popular News Portal

অতিরিক্ত গরম কিংবা ঠান্ডায় মরছে মুরগি, লোকসানে ক্ষুদ্র খামারিরা

অমিত চন্দ্র পাল, সিনিয়র রিপোর্টার:
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা কুড়িগ্রামে দিন দিন আবহাওয়ায় বাড়ছে অস্বাভাবিকতা । কখনও তীব্র গরম, আবার হঠাৎ ভারী বৃষ্টিতে তাপমাত্রা কমে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে ঠান্ডা পরিবেশ। আবহাওয়ার এই আকস্মিক পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে পোল্ট্রি খাতে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় মুরগির খামারে রোগব্যাধি বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি মৃত্যুর ঘটনাও বাড়ছে। এতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিরা আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, মুরগি সাধারণত ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সবচেয়ে ভালো থাকে। তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে হিট স্ট্রেস দেখা দেয়। আবার দ্রুত তাপমাত্রা কমে গেলে ঠান্ডাজনিত রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। কুড়িগ্রামে বর্তমানে দিনে গরম এবং বৃষ্টির পর রাতে তুলনামূলক ঠান্ডা পরিবেশ তৈরি হওয়ায় মুরগি বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।

তাই আমাদের এই পরামর্শগুলো মেনে খামার পরিচালনা করলে ক্ষুদ্র খামারিরা লাভবান হবেন-
*বাসস্থান নির্বাচন: যে স্থানে খুব গরম বা খুব ঠান্ডা হয় না খামার জন্য এমন স্থান নির্বাচন করতে হবে। অবশ্যই খামারে বায়ো সিকিউরিটি থাকতে হবে। অর্থাৎ খামারে যেন জীবানু প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য স্প্রে ও জীবানু-নাশক ওষুধ দিয়ে ক্যানেল তৈরী করতে হবে।
*তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: মুরগির খামেরর জন্য আদর্শ তাপমাত্রা হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাই অধিক গরমের সময় পর্যাপ্ত বাতাস ও চালে পানি স্প্রে করে তাপমাত্রা কমাতে হবে। ঠান্ডার সময় বৈদুতিক বাতি বা আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করতে হবে।
*বাচ্চা নির্ধারণ: ইঅড ও ইখজও জাতের মুরগি বর্তমান আবহাওয়ার সাথে সহজেই খাপ খাইয়ে নিতে পারে। এছাড়াও শব্দ করলে মাথা নাড়াবে, চোখ নাড়াবে, স্বাভাবিক হাটাচলা করবে এমন মুরগি খামারের জন্য নির্বাচন করতে হবে।
*ভ্যাকসিন প্রদান: ০-৭ দিনের মধ্যে ১ম রাণীক্ষেত ভ্যাকসিন পরবর্তীতে প্রতি ৪মাস পর পর, ১০-১৪ দিনের মধ্যে গামবোরো ভ্যাকসিন এবং বুস্টার ডোজ ১৫দিন পর, ২০ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে পক্সের ভ্যাকসিন দিতে পারলে মুরগির মৃত্যু হার অনেক কমে যাবে।
*খাবার প্রদান: বয়লাম মুরগির ক্ষেত্রে ১-৪দিন ৫-১০গ্রাম, ৫-৯ দিন ১০গ্রাম থেকে ধীরে ধীরে বাড়িয়ে ৪৫ গ্রাম পর্যন্ত, ১০-২০ দিন ৪৫গ্রাম থেকে শুরু করে ১০০গ্রাম এবং পরবর্তী দিনে ধীরে ধীরে বাড়িয়ে ১২০-১৩০ গ্রাম পর্যন্ত।
বাজারজাত: বয়লার মুরগি ৩০-৩৫ দিনের মধ্যে বাজারজাত করতে হবে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ক্ষুদ্র খামারি মোঃ ইন্তাজ খান জানান, কয়েকদিনের তীব্র গরমে মুরগি দুর্বল হয়ে পড়েছে। এরপর হঠাৎ বৃষ্টির কারণে খামারে আর্দ্রতা বেড়ে যায়। মাত্র এক সপ্তাহে তার খামারের বেশ কিছু মুরগি মারা গেছে। চিকিৎসা ও ওষুধের খরচ বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না।

অন্য এলাকার খামারি আশরাফুল ইসলাম প্রথম ২০টা মুরগি নিয়ে খামার শুরু করেন কিন্তু চলমান আবহাওয়ায় সঠিক পদ্ধতি জানা না থাকায় ৮টি মুরগি মারা যায়। এবারে তিনি প্রায় ১০০ মুরগির বাচ্চা তুলবেন। কিন্তু প্রশিক্ষণ না থাকায় লোকসানের ভয় এখন প্রধান বাধা।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আরও জানান, ক্ষুদ্র খামারিদের সাবলম্বি করে গড়ে তুলতে আমরা বিনামূল্যে ২ থেকে ৭দিনের প্রশিক্ষণ প্রদান করছি, এছাড়াও খামারিদের বিভিন্ন সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে স্বল্পমূলে লাইসেন্স প্রদান করছি, এতে কোনো খামারি অধিকাংশ মুরগি রোগে অথবা দুর্ঘটনায় মারা গেলে ১৫-২০ দিনের মধ্যে প্রানিসম্পদ অফিসের মাধ্যমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর আবেদন করলে ক্ষতিপূরণ পাওয়া সম্ভব।

bitcoin mixer