চিলমারী প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে বিআইডব্লিউটিএ এর অধিনে চলমান নদী বন্দরের কার্যক্রম এলাকায় অরক্ষিত চৌবাচ্চায় (পানির হাউজ) পড়ে শামিম নামে ৩বছরের শিশুর মৃত্যু। শোকের ছায়া। বৃহস্পতিবার সকালে নির্মাণাধীন চিলমারী নদী বন্দরে ফেলে রাখা একটি পানির চৌবাচ্চায় এ ঘটনা ঘটেছে। সে রমনা মডেল ইউনিয়নের ব্যাপারী পাড়া এলাকার মমিনুল ইসলামের ছেলে বলে জানা গেছে। এলাকায় উত্তেজনা। সমাধানের আশ^াস দিয়ে নিহতের পরিবারকে অফিসে ডাকলেন ইউএনও।
জানা গেছে, নির্মাণাধীন চিলমারী নদী বন্দরের উত্তর প্রান্তে লোহার তৈরী একটি পানির চৌবাচ্চা মাটিতে স্থাপন করা ছিল,যা বর্তমানে অকেজো। চৌবাচ্চাটির ভিতরে উন্মুক্ত অবস্থায় ৫-৬ ফুট গভীর পানি জমে ছিলো। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় মৎসজীবি মমিনুল ইসলামের স্ত্রী রোজিনা বেগম ৩ বছরের পুত্র সন্তান শামিম মিয়াকে নিয়ে নদীতে কাপড় কাচতে যান। কাপড় কাচার ফাকে শিশু শামিম মিয়া খেলতে গিয়ে অরক্ষিত ওই চৌবাচ্চার পানিতে পড়ে যায়। পরে শামিম মিয়ার বড় ভাই সোহেল মিয়া ওই পথে যেতে চৌবাচ্চার পানিতে ছোট ভাইয়ের পরনে থাকা গেঞ্জি দেখতে পায় এবং স্থানীয়দের সহযোগীতায় সেখান থেকে শামিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে দায়িত্বরত ডাক্তার তাকে মৃত্যু ঘোষনা করেন।
অভিযোগ রয়েছে, চিলমারী নদী বন্দর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে এর আগেও দুইটি শিশু ওই একই চৌবাচ্চার পানিতে পড়ে গিয়েছিল। সেখানে মানুষজন উপস্থিত থাকায় তাদের কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
নিহত শিশুর পিতা মমিনুল ইসলাম জানান, ইউএনও স্যার এসেছিলেন তিনি ডেকেছেন এবং বিষয়গুলো নিয়ে শুক্রবার বিকালে বসতে চেয়েছেন।
স্থানীয় ছাত্র প্রতিনিধি রেজাউল করিম বলেন, বিআইডব্লিউটিএ ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের চরম গাফলতির কারনে আজ এক শিশুর প্রাণহানী হলো এছাড়াও কাজেও রয়েছে তাদের অনিয়ম। বিপদজনক চৌবাচ্চার বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে স্থানীয়রা একাধিক বার বললেও কোন লাভ হয়নি বলে স্থানীদের দাবী।
এবিষয়ে চিলমারী নদী বন্দরের পোর্ট অফিসার পুতুল চন্দ্রকে একাধিকবার ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
চিলমারী নৌ বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) ইমতিয়াজ কবির জানান, শিশুটির মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রশাসন দায়িত্ব নিয়েছেন জানিয়ে রমনা ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম আশেক আকা শিশুর মৃত্যুর বিষয় নিশ্চিত করেন।
বিষয়টি দুঃখ জনক জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক বলেন, ঘটনার পরেই এলাকায় উত্তেজনা ছিল আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি আর কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা সকল বিষয়ের উপর সিন্ধান্ত নেয়া হবে।
বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের গাফলতি চৌবাচ্চায় প্রাণ গেল শিশুর
