সাওরাত হোসেন সোহেল, চিলমারী:
সঠিক পরিকল্পনার অভাব, নেই উন্নত রেল পথ, চিলমারীতে ট্রেন পৌঁছাতে দুপুর ফলে লোকাল ট্রেনে লোকসান গুনছে কর্তৃপক্ষ। সকালের পরিবর্ততে দুপুরে ট্রেন রমনা স্টেশনে পৌঁছার কারনে প্রতিদিন দুর্ভোগে পড়ছে যাত্রী সাধারন। রমনা ট্রেনের উপর নির্ভর চিলমারীসহ কয়েকটি উপজেলার হাজার হাজার যাত্রীরা সময়ের ব্যবধানে অসহায়। ট্রেনের সময় হয়নি ঠিক, রেল পথ বেহালদশা নেই নজর কর্তৃপক্ষের। দাবি উঠেছে সকল সমস্যা সমাধানের।
জানা গেছে, রমনা বাজার-পার্বতীপুর রুটে এক সময় ট্রেনের যাত্রী ছিল ভরপুর। যাত্রা মানেই ছিল ট্রেন সাথে ভ্রমন আনন্দ। লোকাল নামে থাকলেও এটি ছিল মেইল ট্রেন নামে পরিচিত। কিন্তু কালের পরিবর্তে চারদিকে উন্নয়ন হলেও এই রুটের লাগেনি উন্নয়নেয় ছোঁয়া। উন্নয়ন না হলেও ধির গতির ট্রেন ছুটতো যাত্রী নিয়ে। করোনা দুর্ভোগের সময় হঠাতেই বন্ধ হলেও আবারো ২০২২ সালের মার্চ মাসে লোকাল ট্রেনটি চিলমারী কমিউটার নামে যাত্রা শুরু করে। যাত্রীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে আর এটি রাতে অবস্থান করে পরদিন সকাল ৮.৩০ টায় চিলমারী রমনা বাজার থেকে ছেড়ে দেয়ার কারনে যাত্রীর ভির বাড়তে থাকে এবং সময় মতো সকলে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারতেন। যাত্রী বৃদ্ধি পাওয়ায় আয়ও বৃদ্ধি পেতে শুরু করে রেলে। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষের সিন্ধান্ত অনুযায়ী চিলমারী কমিউটার ট্রেন বন্ধ করে আবারো লোকাল ট্রেনটি চালু করে এবং সেটি ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে ২১ তারিখ যাত্রা শুরু করে যাত্রীদের আশার আলো দেখাতে কিন্তু তা দেখাতে পারেনি। লোকাল ট্রেনের সময় সূচির কারনে যাত্রীদের দুর্ভোগ যেমন বেড়েছে সাথে কমেছে আয়ও। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কমিউটার ট্রেন সকাল ৮.৩০ টায় রমনা থেকে ছেড়ে দেয়ার কারনে মাসে গড়ে প্রায় ৭শত থেকে হাজার যাত্রী হতো এবং আয় হতো ৪০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। এদিকে লোকাল ট্রেন চালুর পর মাসে গড়ে যাত্রী সংখ্যা কমে প্রায় ৩শত থেকে ৫শত এবং আয় এসে দাঁিড়য়েছে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। যাত্রীরা বলেন, এর আগে কমিউটার ট্রেনটি সকালে ছেড়ে দেয়ার কারনে এই অঞ্চলের মানুষ কুড়িগ্রাম ও রংপুর সময় মতো গিয়ে অফিস এবং শিক্ষার্থীরা স্কুল, কলেজ করতে পারতো। এছাড়াও অনেকে সময় মতো গিয়ে ডাক্তার দেখিয়ে আবার ফিরে আসতে পারতো, তবে আলোর আশা দেখাতে লোকাল ট্রেনটি চালু হলেও দুপুর ১২ টার দিকে ছেড়ে দেয়ার কারনে যাত্রী কমে গেছে সাথে ধিরগতির কারনে অনেকে ট্রেনে আর যেতেও চায়না। স্থানীয়রা বলেন, যে ট্রেনেই চালু হোক না কেন তা সকাল ৮টার মধ্যে রমনা স্টেশন থেকে ছেড়ে দিতে পারে আর বিকাল বা সন্ধায় রমনায় পৌঁছাতে পারে সাথে রেলপথ উন্নয়ন হয় যাত্রীর সংখ্যা বহুগুনে বৃদ্ধি পাবে এবং আয়ও অনেক গুন বেড়ে যাবে। প্রধান শিক্ষক আশিক ইশবাল বলেন, এই রেল অনেক পুরাতন এটির উন্নয়ন হলে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক চাকাও সচল হবে এবং ব্যবসার প্রসার ঘটবে। সকাল ৮টার মধ্যে ট্রেন ছেড়ে দিলে আয় ও যাত্রী দু’টাই বাড়বে স্বীকার করে রমনা বাজার রেল স্টেশনে দায়িত্বে থাকা পি ম্যান মাহবুবার রহমান বলেন, আমরা চেষ্টা করছি সমস্যা গুলোর সমাধান করার।
লোকাল ট্রেনে লোকসান: দুর্ভোগে হাজারো যাত্রী
