চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
অনিয়ম কেও যেন হার মানিয়ে চলছে দুর্নীতির দৌরাত্ম্য। ঠিকাদান প্রতিষ্ঠান একের পর এক অনিয়মের আশ্রয় নিলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভুমিকা নিরব থাকায় এলাকাবাসীর ক্ষোভ। সেতু নির্মানের অনিয়ম সাথে দুই পাশে ব্লক নির্মানে অনিয়ম এবং গাইড পোস্ট নির্মানে নিম্ন মানের সামগ্রী অবশেষে ব্রীজের দুই পাশে সংযোগ (এপ্রোচ) হেরিং বোন (এইচবিবি) সড়ক নির্মানে নিম্ন মানের ইট দেয়ায় নির্মান কাজ আটকে দিলেন এলাকাবাসী। ইট সরিয়ে নেয়াসহ ভালো মানের ইট দিয়ে কাজ করা হবে আশ্বাস এলজিইডি বিভাগের।
জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলা পাত্রখাতা এলাকার তিস্তা খালের উপর নির্মান করা হয় ৬৮ মিটার একটি ব্রীজ। এলজিইডি বিভাগের অধিনে কাজটি করেন মেসার্স বসুন্ধরা এণ্ড মেসার্স খায়রুল এন্টার প্রাইজ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) তথ্যমতে, ৩ কোটি ৪০ লাখ ৩১ হাজার ২৯৬ টাকা ব্যয়ে ২০২১-২২ অর্থ বছরে রংপুর বিভাগ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় ৬৮ মিটার সেতুটির কাজ ২০২১ সালের ডিসেম্বর শুরু হয়। দরপত্র অনুযায়ী সেতুটির কাজ ২০২৩ সালের ৮ জুন শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গাফলতির কারনে এখনো শেষ হয়নি। শুরু থেকেই কাজে অনিয়ম করলেও দেখার কেউ ছিলনা। শুধু তাই নয় ব্রীজের দুই পাশে ব্লক বসানো এবং গাইড পোস্ট নির্মান ও বসাতেও নেয়া হয় অনিয়মের আশ্রয়।
এলাকাবাসীর বাঁধার মুখে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ কিছু বাতিল করলেও পরে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান না সরিয়ে কৌশলে সেগুলো কাজে লাগায়। অবশেষে ব্রীজের সংযোগ সড়ক এইচবিবি (হেরিং বোন) নির্মানে রাতের আধারে নিম্ন মানের ইট বসিয়ে কাজ সমাপ্ত করার চেষ্টা করলে টের পেয়ে শুক্রবার সকালে বাঁধা দেন এলাকাবাসী। এলাকাবাসীর বাঁধার মুখে কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। পরে উপজেলা প্রকৌশলী সরেজমিন ঘুরে ইট সরিয়ে নিতে আদেশ দেন।
পাত্রখাতা রিয়াজুল জান্নাহ্ দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওঃ আঃ আজিজ আকন্দ অভিযোগ করে বলেন, ব্রীজে কাজেও অনিয়ম গাইড পোস্টে এবং ব্লক নির্মান ও বসানোর সময় দুর্নীতি করার পরেও সংযোগ হেরিং বোন সড়ক নির্মানে নিম্ন মানের ইট বসিয়ে কাজ করছেন।
স্থানীয় অনেকে অভিযোগ করে বলেন, সেতু নির্মানের সময় (৫আগষ্টের আগে) অনিয়মের বাঁধা দিতে গেলে মামলা আর হামলার ভয় দেখানো হয়েছে।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরত ম্যানেজার আঃ মান্নান বলেন, অফিসের নির্দেশনায় ইট সরিয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে এবং অফিস যেভাবে বলবে সেই ভাবে কাজ করা হবে।
কথা হলে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ জুলফিকার আলী বলেন, আমি সরেজমিন গিয়েছিলাম ইট গুলো সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে আর কোন অনিয়ম মেনে নেয়া হবে না।
