চিলমারী প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে দুই বছরের শিশু আয়শা খাতুন হত্যাকাণ্ডে প্রতিবেশী কহিনুর বেগম কনিকা (২৬) কে গ্রেফতারের পর বেরিয়ে এসেছে শিউরে ওঠার মতো মর্মান্তিক তথ্য। ২ বছরের শিশুকে হত্যার ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও ক্ষোভ।
গ্রেফতারের পর পুলিশকে দেওয়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আয়শার ঘাতক কহিনুর বেগম কনিকা জানায়, ঘটনার দিন সকাল ৯টার দিকে তাদের বাড়িতে তার আড়াই বছর বয়সী ছেলে মো. আব্দুল্লাহ কাফির সঙ্গে খেলছিল আয়শা। খেলার একপর্যায়ে আব্দুল্লাহ’র হাতে থাকা একটি কলমের আঘাতে আয়শার একটি চোখে আঘাত লাগে এবং রক্তক্ষরণ শুরু হয়। হঠাৎ এমন ঘটনায় ভীত হয়ে পড়ে কহিনুর।
বিষয়টি জানাজানি হলে দায় এড়াতে কহিনুর দ্রুত আহত আয়শাকে নিজের ঘরের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে এবং পরে ঘরের ভেতরে থাকা একটি ড্রামের মধ্যে আটকে রাখে, যাতে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে ওইদিন রাত ১০টার দিকে তাদের বাড়ির পাশে জনৈক মাওলানা আবু বক্কর সিদ্দিকের পতিত জমিতে বাঁশের কঞ্চির উপর আয়শার নিথর দেহ ফেলে আসে।
এদিকে, আয়শা নিখোঁজ হওয়ার পর দিনভর স্বজনরা তাকে খুঁজতে থাকেন। কোথাও খোঁজ না পেয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে পরিবারের সদস্যদের। অবশেষে রাত সাড়ে ১০টার দিকে আয়শার মরদেহ উদ্ধার হলে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে পরিবার ও স্থানীয়রা। লাশ উদ্ধার ও মামালার পর পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের তথ্য। বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে অভিযান চালিয়ে এই আলোচিত মামলার মূল আসামি কহিনুর বেগম কনিকাকে তার বাড়ী থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার স্বামী রাশেদুল ইসলাম আপেল (৩০)-কেও গ্রেফতার করা হয়। কহিনুর বেগম উপজেলার মাচাবান্দা সাহাপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের মিডিয়া অফিসার ও উলিপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আশরাফুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, চিলমারীতে শিশু হত্যার ঘটনার সংবাদ পাওয়া মাত্র পুলিশ সুপার, কুড়িগ্রাম মহোদয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় চিলমারী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার যৌথ দল দ্রুততম সময়ে হত্যার রহস্য উদঘাটন ও মূল ঘাতকদেরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। এ হত্যাকান্ডে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে বাড়ির পাশে খেলছিল দুই বছর বয়সী আয়শা খাতুন। হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায় সে। দিনভর আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজির পর রাতে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মর্মান্তিক ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে পড়ে পুরো এলাকা। ঘটনাটি উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের মাচাবান্দা সাহপাড়া এলাকায় ঘটে।
