• বৃহঃ. এপ্রি ১৬, ২০২৬

Sakaler Kagoj

The Most Popular News Portal

চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের শুরুতেই অনিয়মের অভিযোগ

সেপ্টে ১৭, ২০২০

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
শুরুতেই অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে চিলমারী রক্ষার ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের বিরুদ্ধে। নিয়ম নীতিতে তোয়াক্কা না করেই অধিক লাভের আশার কর্তৃপক্ষের সাথে আতাত করেই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অনিয়ম আর দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। অভিযোগ উঠেছে ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের কাজে নিয়ম মতাবেক জিও ব্যাগ না দিয়ে ব্লক ডাম্পিংসহ বিভিন্ন অনিয়মের আশ্রয় নেয়া হয়েছে। চলমান কাজের অনিয়মের অভিযোগকে ঘিরে এলাকাবাসী ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজনের মধ্যে বিরোধ চরমে উঠেছে। মুখোমুখি অবস্থানে এলাকাবাসী ও কাজের সাথে সংশ্লিষ্টরা। এলাকাবাসীর অভিযোগ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন মাধ্যমে ক্ষমতা দেখিয়ে কাজে অনিয়ম করে যাচ্ছে। অপরদিকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দাবী তারা নিয়ম মেনেই কাজ করছে।
জানা গেছে, কড়ালগ্রাসী ব্রহ্মপুত্র নদের হাত থেকে কুড়িগ্রামের চিলমারীকে রক্ষার জন্য ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের কাজ ৩য় ধাপে বরাদ্দের মাধ্যমে চলমান রয়েছে। উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের ফকিরেরহাট এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর বরাবর কি.মি. ৫৬.৩০০ হতে কি.মি. ৫৬.৮০০ পর্যন্ত ৫০০ মিটার নদী তীর সংরক্ষনের কুড়ি/এডিপি/চিলমারী/পি-০৩/০৬ প্যাকেজ এর কাজ পায় ঢাকাস্থ টিটিএসএল-এলএ-এসআর (জয়েন্ট ভেঞ্চার) নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। যার চুক্তিমূল্য প্রায় সাড়ে ২৭ কোটি টাকা। চুক্তি মোতাবেক নদী তীর থেকে ২০মিটার এলাকা ঢালু হয়ে ব্লক পিচিং এবং এর পরবর্তী ৩০ মিটার এলাকা খনন পূর্বক জিও ব্যাগ দিয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্লক ডাম্পিং হওয়ার কথা থাকলেও খনন না করে এবং জিও ব্যাগ না ফেলে ব্লক ডাম্পিং করা হচ্ছে বলে এলাকাবাসী জানান।
এলাকাবাসী আরো জানান, কিছু জিও ব্যাগ ভর্তি করে গননা শেষ করলেও তা ফেলানোর আগে বন্যা আসে এবং চরে থাকা কয়েক হাজার ব্যাগ তলিয়ে যায় ফলে তা ফেনালো হয়নি। সেটিও ফেলানো দেখার পায়তারা করছে কর্তৃপক্ষ এলাকাবাসীর অভিযোগ।
সরেজমিনে গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফকিরেরহাট খারুয়ারপাড় এলাকায় গিয়ে এলাকাবাসী ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকদের মধ্যে বাক-বিতন্ডার দৃশ্য চোখে পড়ে। এসময় এলাকাবাসী গোলাম মোস্তফা, ইলিয়াছ, মিলন, শিমুল, দেলদার, সাহাবুলসহ উপস্থিত অর্ধ শতাধিক জনতা অভিযোগ তুলে বলেন, তীর থেকে ঢালু ২০মিটার এর পর ৩০ মিটার এলাকা নদী খনন করে জিও ব্যাগ ফেলে তার উপরে ব্লক ডাম্পিং না করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এলাকার কয়েকজনের সাথে মিলে ক্ষমতার জোড়ে বালুর উপরে ব্লক ডাম্পিং করাচ্ছে। তারা আরও বলেন, এভাবে ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হলে প্রকল্পের উদ্দেশ্য ভেস্তে যাবে।
কুড়িগ্রাম পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আরিফুল ইসলাম বলেন, ওই সাইডের কিছু জায়গায় ২০মিটার এলাকা খনন পূর্বক জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে এবং ২০মিটারের মধ্যে ব্লক ডাম্পিং চলছে। বন্যা পরবর্তী সময়ে বাকি ১০মিটার এলাকা খনন করে জিও ব্যাগ ও ব্লক ডাম্পিং করা হবে।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ ডব্লিউ এম রায়হান শাহ্ বলেন, বিষয়টি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

bitcoin mixer