• বৃহঃ. এপ্রি ১৬, ২০২৬

Sakaler Kagoj

The Most Popular News Portal

চালের বাজার দর বেঁধে দেয়ার পরও ব্যবসায়ীরা তা কার্যকর করছে না

অক্টো ১১, ২০২০

কমছেই না চালের দাম। সরকার চালের বাজার দর বেঁধে দিলেও ব্যবসায়ীরা তা কার্যকর করছে না। বরং সরকারের কঠোর পদক্ষেপেও কোথাও কোথাও চালের দাম সামান্য বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার আবারো চাল আমদানিমুখী হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যে চাল আমদানির সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। যে কোন সময় আমদানির কার্যক্রম শুরু হবে। খাদ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, চালের বাজার সরকারি কোন পদক্ষেপেই সিন্ডিকেট মুক্ত করা যাচ্ছে না। চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকে অসাধু ব্যবসায়ী, মজুদদার ও সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মূল্য নিয়ন্ত্রণে মাঠে রয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত ৭টি মনিটরিং টিম। কিন্তু তারপরও সিন্ডিকেট মিল মালিকদের কারসাজি বন্ধ হচ্ছে না। বরং কোনো কারণ ছাড়াই অস্থির হয়ে উঠছে চালের বাজার। এমন অবস্থায় সরকার চালের দাম বাড়ার পেছনে জড়িত মিলারদের খুঁজে বের করে লাইসেন্স বাতিল করা কথা বিবেচনা করছে। তাছাড়া চুক্তি অনুযায়ী সরকারকে ধানচাল সরবরাহ না করা এবং অবৈধ মজুদের কারণে মিল মালিকদের কালো তালিকাভুক্ত করারও উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি চাল আমদানি উন্মুক্ত করে দিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করার কথা ভাবা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের কষ্ট বেড়েছে। একেবারে খেটেখাওয়া সাধারণ মানুষ ও দিনমজুর মানুষের খাবারের ভরসা মোটা চাল। গত দু’সপ্তাহ আগেও স্বর্ণা ও চায়না ইরি খ্যাত মোটা চাল রাজধানীতে প্রতিকেজি ৪২ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এখন তা বাড়তে বাড়তে ৫০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। খুচরা বাজারে এখন প্রতিকেজি পাইজাম ও লতা চাল ৫০-৫৩, স্বর্ণা চাল ৫০ টাকা, নাজিরশাইল ৫৬-৬০ এবং মিনিকেট মানভেদে ৬২-৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতারা বলছে, ধানের দাম বাড়ার কারণে নাকি মিলগেটে চালের দাম বেড়েছে। আর ওই কারণে পাইকারি বাজারেও দাম বাড়তি। মজুদকৃত চাল বাজারে না এলে দাম আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অতিসম্প্রতি সরকার চালকল মালিক ও চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে পঞ্চাশ কেজি ওজনের ভালমানের এক বস্তা মিনিকেট চালের দাম মিল গেটে ২ হাজার৫৭৫ টাকা এবং মাঝারি মানের চালের দাম ২ হাজার ১৫০ থেকে ২ হাজার ২৫০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। ফলে নতুন দর অনুযায়ী মিল গেটে মিনিকেট চালের প্রতিকেজির দাম পড়বে ৫১ টাকা ৫০ পয়সা। আর মাঝারি চালের দর মিল গেটে পড়বে প্রতি কেজি ৪৫ টাকা দরে। কিন্তু বাজারে ওই দাম কার্যকর হয়নি। আর সরকার নির্ধারিত মূল্য কার্যকর না হওয়ায় চাল আমদানি উন্মুক্ত করে দেয়ার কথা ভাবছে সরকার। মূল্য বাস্তবায়ন না হলে আগামী ১০ দিনের মধ্যে সরকার সরু চাল আমদানির অনুমতি দেবে।
সূত্র আরো জানায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ১/২ টাকা বেড়েছে। সবচেয়ে কম দামের মোটা স্বর্ণা খ্যাত চাল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আর খুচরা বাজারে সরু মিনিকেট ও নাজিরশাইল চাল ৬২-৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে চালের দাম কেজিতে ১/২ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বিশেষ করে মোটা চালের দাম একটু বেশি বেড়েছে। তাছাড়া মানভেদে মিনিকেট ৫০ কেজির বস্তা ২ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর মোটা চালের বস্তা ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে চালের দাম বেশি হওয়ার কারণে খুচরায়ও দাম বেশি।
এদিকে খাদ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, সবাইকে সরকার নির্ধারিত চালের দাম কার্যকর করতে হবে। তা নাহলে কয়েকদিনের মধ্যে সরু চাল আমদানি করা হবে। একই সঙ্গে ভোক্তা অধিকার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনক্রমেই আগামী এক মাস চালের দাম বাড়ানো যাবে না। র‌্যাব, ভোক্তা অধিদফতর, এনএসআই অভিযান চালানো শুরু করে। তখন যেসব চালকল মালিক চাল স্টক করে রেখেছিল, তারা অভিযান বন্ধ রাখতে মজুদ সব ধান বাজারে ছাড়ার ব্যবস্থা করার কথা বলে। দেশে পর্যাপ্ত ধানের মজুদ রয়েছে, ওই ধান বের করতে হবে এবং বাজারে দাম বাড়ানো যাবে না।
অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার জানান, সরকার চালের বাজার দর নির্ধারণের পর দেশের কোথাও চালের দাম বাড়েনি। চালের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। অবৈধভাবে মজুদ ধান বাজারে ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে। বাজার আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে এবং আশা করা যায় শিগগিরই চালের বাজার কিছুটা কমে আসবে। তাছাড়া চাল আমদানির ব্যাপারে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা রয়েছে। প্রয়োজনে যে কোন সময় আমদানি শুরু করা হবে। তবে সাঁড়াসি অভিযানের কারণে চালের বাজার আর বাড়ছে না। আস্তে আস্তে বাজার আরো কমে আসবে।

bitcoin mixer