• শুক্র. এপ্রি ১৭, ২০২৬

Sakaler Kagoj

The Most Popular News Portal

দারিদ্রপীড়িত জেলা কুড়িগ্রামে উন্নয়নের অর্থনৈতিক শক্তি হতে পারে পদ্ম ফুল

অক্টো ২৮, ২০২০

বিশেষ প্রতিবেদক:
দারিদ্রপীড়িত জেলা কুড়িগ্রামে উন্নয়নের অর্থনৈতিক শক্তি হতে পারে পদ্ম ফুল। পদ্ম ফুল শুধু যে বিশুদ্ধতা, সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে তা নয়, খাদ্য এবং ওষুধি গুণ হিসেবেও পদ্ম আজ সারা বিশ্বে সমাদৃত। একসময় আমাদের দেশে পুকুর কিংবা বিলে-ঝিলে শোভাবর্ধন করে ফুটে থাকতো মনোহারি পদ্ম ফুল। কিন্তু প্রকৃতি বৈরিতা আর দূষণে পদ্ম ফুল এখন হাতে গোনা কিছু জায়গা ছাড়া চোখে পড়ে না। তাই সরকারিভাবে কুড়িগ্রামে পদ্ম বিল সংরক্ষণ করার দাবী সাধারণ মানুষের।
চোখ যে দিকে যায় শুধু পদ্ম আর পদ্ম ফুল। চোখ জুড়ানো এই দৃশ্য দেখে যে কারোই মন ভাল হয়ে যাবে। অনেকেই লাল শাপলা আর পদ্ম ফুলের মধ্যে মিল থাকার কারণে চিনতে ভুল করেন। কিন্তু এর বীজপত্র ভালোভাবে দেখলেই পার্থক্য বোঝা যায়। পদ্ম ফুল সাধারণত শরৎকালে ফোটে তবে বর্ষাকালেও পদ্মের দেখা পাওয়া যায়। কুড়িগ্রামের দুটি উপজেলায় এই পদ্ম ফুলের সমারোহ দেখা যায়। একটি রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের প্রায় ৫শ একর জমিতে চাকিরপশা বিলটি এখন পদ্মবিল নামেই পরিচিত। এই বিলে সাদা ও গোলাপি পদ্ম ফুলের দেখা মেলে। অপরদিকে রৌমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ঐতিহাসিক নীলের কুঠি গ্রামের পাটাধোয়া বিলে প্রায় ১৫ একর জমিতে লাল পদ্ম ফুলের দেখা মেলে। দু’চোখ যতো দূরে যায়, শুধু পদ্ম আর পদ্ম। আর এ কারণে বিল দুটি পদ্মবিল নামেই পরিচিত হয়ে উঠেছে মানুষের কাছে। প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া এই পদ্ম ফুল বাড়তি সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে উত্তরের এই জনপদের। প্রতিবছর পদ্মবিলে সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন দর্শণার্থীরা। গোলাপী ও সাদা রং এর পদ্ম দেখলে মন জুড়িয়ে যায়। এমন অপরূপ দৃশ্য যেন ভ্রমণ পিপাসুদের হাতছানি দিচ্ছে। এ বিলের সৌন্দর্য ও পদ্ম দেখতে নৌকায় ঘুরে সৌন্দর্য উপভোগ করেন ভ্রমণ পিপাসুরা। আর বর্ষাাকালে কোনো কাজ না থাকায় পদ্ম ফুল তুলে বাড়তি আয় করেন অনেকেই। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পুঁজো উৎসবে এই ফুলের বেশি চাহিদা পড়ে। পূঁজারিরা পদ্মফুল সংগ্রহ করে এলাকা থেকে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, পদ্মফুলের চাহিদা থাকলেও নেই বাণিজ্যিক চাষাবাদ। বিল থেকে পদ্ম ফুল, পাতা, ডাটা তুলে বিক্রি হয় হরেক রকম দামে। তবে অনাদর-অযত্নে ফুটে থাকা এসব পদ্মফুল গুলো হতে পারে কৃষকদের বাড়তি আয়ের উৎস। সরকারিভাবে পর্যটন এলাকা ঘোষণা করা এবং মধুর চাহিদা মেটাতে পদ্ম ফুলে কৃত্রিম উপায়ে মধু চাষ করার দাবী জানায় স্থানীয়রা। এতে করে দারিদ্রপীড়িত এই জনপদে বাড়তি আয়ের উৎস হতে পারে বলে দাবী এই জনপদের মানুষজনের। এছাড়া কৃষকদের পদ্ম ফুল সংরক্ষণে প্রশিক্ষণ দেবার পাশাপাশি সবজির চাহিদা পূরণ করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার আহবান জানায় সাধারণ মানুষজন।
এ ব্যাপারে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান জানান, জেলার অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে পদ্ম ফুল বাড়তি ভূমিকা রাখতে পারে। এই পদ্ম বিলটি পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের কৃষি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃষিবিদ শামসুদ্দি মিঞা বলেন, ‘সুগন্ধি’ বা ‘অ্যারোমা’ হিসাবে প্রসাধনী শিল্পে পদ্ম ব্যবহার করা হচ্ছে। গবেষকরা প্রমাণ করেছেন, পদ্মের এন্টি অবেসোজেনিক ও এন্টি ডায়াবেটিক ঔষুধি গুণ রয়েছে। আরো রয়েছে ন্যুসিফেরিন, অ্যাপোরফিন ও আরমেপ্যাভিন জাতীয় অ্যালকালয়েড। ফলে পদ্ম ফুল একদিকে ঔষধি হিসেবেও যেমন কার্যকরি তেমনি প্রটিনযুক্ত সবজি হিসেবে খাবারের জন্য বেশ উপকারি বলেও জানান তিনি।
#

bitcoin mixer