• জুন ১১, ২০২৪ ১:৩৭ অপরাহ্ণ

চিলমারীতে কৃষকের তালিকায় হ-য-ব-র-ল

জুন ৪, ২০২৪

চিলমারী প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে সরকারি ভাবে খাদ্যগুদাম কৃষককের কাছে ধান সংগ্রহ করতে গিয়ে বিপাকে। কৃষকের তালিকায় হ-য-ব-র-ল হওয়ায় কৃষকের তালিকায় ধান দিতে সক্রিয় সিন্ডিকেট। ধান ক্রয়ের প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজড করা হলেও তালিকায় অনিয়ম ও ভুয়া কৃষকের নাম অর্ন্তভুক্ত হয়েছে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কৃষকরা। সংশ্লিষ্ট দপ্তর দায় এড়াতে চেষ্টা ও তদবিল চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠছে।
জানাগেছে, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে মোট ২২৯ জন কৃষকের কাছ থেকে ৩২ টাকা কেজি দরে ৬৮৮ মেট্রিক টন ধান, ৪৫ টাকা প্রতিকেজি দরে উপজেলার ৪০ জন মিলারের মাধ্যমে ১হাজার ৯৬ মে. টন চাল ও প্রতি কেজি ৩৪ টাকা দরে ৯০ মে.টন গম ক্রয় করা হবে।
চিলমারী এলএসডি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে মোট ২২৯ জন কৃষকের মধ্যে এ পর্যন্ত (৪ জুন) ২০জন কৃষক ৬০ মেট্রিক টন ধান গুদাম জাত করেছেন। তবে ওই ২০জন কৃষকের তালিকা দেখাতেও অপরাগতা প্রকাশ করেন দায়িত্বরত মাইদুল ইসলাম নামে এক অফিস স্টাফ। তিনি বলেন, তালিকা নিতে হলে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের প্রত্যয়ন দেখাতে হবে। অভিযোগ উঠেছে, সিন্ডিকেট চক্রের মাধ্যমে কৃষকের ভুয়া তালিকা দেখিয়ে গুদামে ধান দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। পরে তালিকার সূত্র ধরে উপজেলার থানাহাট, রমনা, রাণীগঞ্জ, নয়ারহাট, অষ্টমীর ও চিলমারী ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত কৃষকদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বেশির ভাগ মানুষ জানান তারা চিলমারীর বাসিন্দা নন এবং বেশকিছু নাম্বার বন্ধও পাওয়া যায়। তালিকা ভুক্ত থানাহাট ইউনিয়নের কৃষক আমিনুল ইসলাম যার (০১৬১৩২৯০৬২১)মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি খুলনার বাসিন্দা বলে জানান। জিল্লুর রহমান (০১৭৪৩৭৪০১৭৯) মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি চিলমারী থানার এসআই দিলীপ কুমার রায় বলে পরিচয় দেন। অষ্টমীর চর ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত কৃষক আব্দুল মালেক যার (০১৬১৩২৯০৬৫২) মোবাইলে যোগযোগ করা হলে তিনি রং নাম্বার বলে কেটে দেন। নয়ারহাট ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত কৃষক সাদেক হোসেন যার (০১৭২৫৫৪৭১৯৮) যোগাগোগ করা হলে তিনি লালমনির হাট বড়বাড়ী এলাকার বলরাম বলে পরিচয় দেন। তালিকাভুক্ত বেশকিছু কৃষকদের সাথে যোগাযোগ করা হলে প্রায় নাম ও মোবাইল নাম্বার গুলো গরমিল পাওয়া যায়।
থানাহাট ইউনিয়নের পূর্বমাচাবান্দা এলাকার আমিনুল ইসলাম বীর বলেন, প্রতিবছরই সরকারী ভাবে ধান ক্রয়ের সময় অভিযোগ ওঠে। ধান ক্রয়ের সময় কৃষকরা ধান গুদামে দিতে না পারলেও ভুয়া তালিকায় একটি সিন্ডিকেট চক্র ধান দেয়। এ্যাপসের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া হলে কিভাবে ভুয়া কৃষক অর্ন্তভুক্ত হয় তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
এ বিষয়ে আমার জানা নেই জানিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কুমার প্রণয় বিষাণ দাস বলেন, কৃষকরা এ্যাপসের মাধ্যমে আবেদন করেছিল। আমরা ইউএনও স্যারকে আবেদনকৃত তালিকা সরবরাহ করেছি। তিনি লটারি করেছেন।
অনেকের মোবাইল নাম্বারের মিল নেই স্বীকার করে চিলমারী উপজেলা ভার: খাদ্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আরেফিন বলেন, এ পর্যন্ত ৬০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। ধান সংগ্রহের সময় কৃষকের কৃষি কার্ড ও ভোটার আইডি মিলিয়ে ধান নেয়া হয়েছে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা বলেন, কৃষি অফিসের ব্লক সুপার ভাইজার মাঠ পরিদর্শন করে যে তালিকা প্রণয়ন করে লটারীর মাধ্যমে সে তালিকা ধরে আমরা ধান ক্রয় করি। এখানে আমাদের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই।