• শনি. মে ২১, ২০২২

ঘরমুখী মানুষের স্রােত

এপ্রি ২৮, ২০২২

প্রতিবছর ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বর্তমানে রাজধানী থেকে বের হওয়ার সড়কগুলো কমবেশি ভাঙাচোরা হয়ে পড়েছে। এ কারণে রাজধানী থেকে বের হওয়ার রাস্তাগুলোয় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। ঈদে যাত্রী দুর্ভোগ কমাতে এসব সড়কের খানাখন্দ দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নিতে হবে। বর্তমানে দেশের উত্তরাঞ্চলগামী ২৩ জেলার মানুষের দুর্ভোগ শুরু হয় টাঙ্গাইল থেকে। একদিকে বেহাল সড়ক, অন্যদিকে উন্নয়নকাজ চলমান। ফলে প্রতিদিন সড়কগুলোয় যানজট লেগেই থাকে। এতে দুর্ভোগে পড়ে এ সড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা। ঢাকাণ্ডময়মনসিংহ মহাসড়কে যাত্রীদের দুর্ভোগ লেগেই থাকে। কেবল ঢাকাণ্ডময়মনসিংহ মহাসড়কে নয়, ঈদের আগে-পরে দেশের সব মহাসড়কেই যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ঢাকাণ্ডচট্টগ্রাম মহাসড়কের সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় সড়কের অবস্থা করুণ। খানাখন্দে ভরা এ সড়কে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঈদযাত্রা শুরু হওয়ার আগেই রাজধানী থেকে বের হওয়ার পর পথে পথে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ঈদের বাড়তি গাড়ি রাস্তায় নামলে যানজট আরও তীব্র আকার ধারণ করার আশঙ্কা করা হচ্ছে। মহাসড়কের পাশে হাটবাজারের কারণেও যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে দেশের মহাসড়কগুলো কার্যত মহাসড়ক হয়ে উঠতে পারছে না। মহাসড়কে যত্রতত্র অযান্ত্রিক যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে হবে। অন্যদিকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া। লাখ লাখ মানুষ বছরজুড়ে নানা দুর্ভোগ সহ্য করে এ নৌপথে চলাচল করে। ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে সেই দুর্ভোগ বেড়ে যায় কয়েক গুণ। এ রুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ার কারণে বেশ কিছুদিন ধরে প্রায় প্রতিদিন যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। নদী পারের অপেক্ষায় আটকে থাকা যানবাহনের যাত্রী ও চালকরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। জানা যায়, নদী পারাপার হতে আসা যানবাহনের তুলনায় নৌরুটে ফেরির স্বল্পতা, নদীর নাব্য ও ঘাট সংকটে মূলত যানবাহন পারাপার ব্যাহত হচ্ছে। পদ্মা নদী পাড়ি দিতে ফেরির নাগাল পেতে মহাসড়কে প্রতিদিনই পণ্যবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ সারিতে আটকে থাকতে হচ্ছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আসন্ন ঈদে এই দুর্ভোগ অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছাবে। দেশের সব নৌরুটে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বস্তুত প্রতিবছর ঈদের আগে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ কমাতে কর্তৃপক্ষ নানা পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। কিন্তু তারপরও ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ঈদযাত্রায় ট্রেনের অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করতে গিয়ে যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়টি এবারও আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। অগ্রিম টিকিট বিক্রি শেষ, এখন ঘরে ফেরা মানুষদের যাত্রায় ব্যাপক সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হলে পরিস্থিতি অনেকটা সহনীয় হয়ে উঠতে পারে। ঈদের আনন্দযাত্রা যাতে বিষাদে পরিণত না হয়, সেজন্য কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।