• মে ২৭, ২০২৪ ১:৪৫ অপরাহ্ণ

চিলমারীতে জাল সনদে ৯ বছর ধরে চাকুরী: বেতন বন্ধের নির্দেশ

মার্চ ২৮, ২০২৪

চিলমারী প্রতিনিধি:
জাল সনদে নিয়োগ অতপর দীর্ঘ ৯ বছর চাকুরী, অবশেষে বেতন বন্ধের নির্দেশ। জরিতদের বিরুদ্ধের ব্যবস্থা নেয়ার দাবি স্থানীয়দের। কুড়িগ্রামের চিলমারীতে সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে এক শিক্ষকের বেতন-ভাতা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম মোছা. আঞ্জুমান আরা। তিনি উপজেলার থানাহাট পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। ২০১৫ সালে সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে ওই প্রতিষ্ঠানে তথ্য ও গ্রন্থাগার বিজ্ঞান পদে চাকরি নেন তিনি। যার ইনডেস্ক নম্বর- ১১২৮৩৬৭।
জানা গেছে, আঞ্জুমান আরা ডিপ্লোমা ইন লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সাইন্সের ভুয়া সনদ দিয়ে থানাহাট পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চাকরি নেন প্রায় ৯বছর আগে। এবং বছরের পর বছর থেকে নিয়মিত বেতন ভাতা গ্রহন করেও আসছেন। এরই প্রেক্ষিতে গত ২২ জুন ২০২২ সালে থানাহাট ইউনিয়নের শামস পাড়া এলাকার ফারদিন হাসান ফাহিম নামে এক ব্যক্তি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে অভিযোগ করেন। একটি সূত্র জানায়, অভিযুক্ত শিক্ষক আঞ্জুমান আরা যে সনদটি ব্যবহার করেছেন প্রকৃতপক্ষে সেই সনদটি খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আহাম্মদ আলীর মেয়ে মোছা. আঞ্জুমান আরার। যার রোল নম্বর-২০১২০১২ রেজিস্ট্রেশন নম্বর- ১২০০০১৬, পাশের সন ২০১২। নামের মিল থাকায় জালিয়াতির মাধ্যমে ওই সনদপত্রটি দিয়ে চাকুরি নেন থানাহাট ইউনিয়নের শামসপাড়া এলাকার মো. নজির হোসেনের মেয়ে মোছা. আঞ্জুমান আরা। অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাউশি কর্তৃক তদন্তে সনদপত্র জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। জাল সনদে এমপিওভুক্ত হওয়ায় জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২১ এর বিধিমোতাবেক আঞ্জুমান আরার বেতন ভাতা বন্ধে সুপারিশ করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আঞ্জুমান আরার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কথা বলতে রাজি হয়নি। অভিযুক্ত শিক্ষক নিয়মিত বেতন ভাতা গ্রহন করে আসছেন স্বীকার করে থানাহাট পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তৈয়ব আলী বলেন, ‘শিক্ষক আঞ্জুমান আরা যে সনদটি ব্যবহার করে চাকরি নিয়েছেন মূলত সেটি তার নিজের নয়। পরে তদন্তের মাধ্যমে সেটি ধরা পরে। তার বেতন-ভাতা বন্ধের জন্য শিক্ষা অধিদপ্তর সুপারিশ করেছেন। চিঠির আলোকে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু তাহের বলেন, ‘ওই শিক্ষকের সনদ জালিয়াতির বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় গত ১৩ মার্চ/২৪ অধিদপ্তর কর্তৃক বেতন-ভাতা বন্ধের সুপারিশ করা হয়েছে। কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামছুল আলম বলেন, ‘ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বেতন-ভাতা বন্ধের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষককে বলা হয়েছে।