• সোম. অক্টো ১৮, ২০২১

নিলাম ছাড়াই বিদ্যালয়ের মালামাল বিক্রি

সেপ্টে ৩০, ২০২১

চিলমারী প্রতিনিধি:
সরকারী নিয়ম নীতিকে তোয়াক্কা না করেই বিদ্যালয়ের লক্ষ লক্ষ টাকার মালামাল বিক্রি। চলছে লুটপাট। অভিযোগ উঠেছে দক্ষিণ খাউরিয়া স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও সভাপতির বিরুদ্ধে। জেনেও না জানার ভান করে অজ্ঞাত কারনে নিরব প্রশাসন। এলাকাবাসীর ক্ষোভ।
জানা গেছে, কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নে অবস্থিত দক্ষিণ খাউরিয়া স্কুল এন্ড কলেজ। সৃষ্টি কাল থেকে বিভিন্ন অনিয়ম আর দুর্নীতির মধ্য দিয়েই চলছে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম অভিযোগ এলাকাবাসীর। অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার সরেজমিনে দেখা গেছে, নয়ন নামে এক ব্যবসায়ী বিদ্যালয়ের মালামাল নৌকায় তুলছেন, এসময় কথা হলে তিনি বলেন, তিনি ৪২.৫০ টাকা কেজি দরে ৭হাজার ১১২ কেজি স্টীল পাইপ, লোহার অ্যাংগেলসহ বিভিন্ন মালামাল ক্রয় করেছেন এবং তিনি এসময় অধ্যক্ষের স্বাক্ষরিত একটি প্রত্যয়ন দেখালেও নিলামের কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। তবে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ৩৮ টাকায় মালামাল বিক্রি করছেন বললেও নয়ন মিয়া ৪২.৫০ টাকা দরে মাল ক্রয় করেছেন বলে জানান। তবে মালামাল নৌকায় উঠানোর সময় বিদ্যালয়ের দায়িত্বরত কাউকে দেখা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, মালামাল বিক্রির ক্ষেত্রে কৌশল অবলম্বন করে যা বিক্রি দেখানো হচ্ছে এর চেয়েও বেশি মালামাল বিক্রি করে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সভাপতি ও অধ্যক্ষ। এলাকাবাসী জানান, নদী ভাঙ্গনের মুখে বিদ্যালয়টি পড়লে সরকারী নিয়ম না মেনেই কোন প্রকার নিলাম বা এলাকাবাসীকে জানানোর আগেই বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ইটসহ বিভিন্ন মালামাল লুটপাট ছাড়াও কয়েকবার বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা আৎসাদে নেমেছেন স্কুল এন্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ। এলাকার জোবেদ, ফজর, জয়নাল, শওকতসহ অনেকে জানান, ভাঙ্গনের অযুহাতে বিদ্যালয়ের মালামাল লুটপাটে নেমেছে অধ্যক্ষ, সভাপতিসহ কয়েকজন মাতাব্বর। তারা আরো বলেন, বিদ্যালয়, বাজারসহ এলাকাকে ভাঙ্গন থেকে রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জিও ব্যাগ দেয়া হলেও সেখানেও লুটপাটে নেমেছিল দায়িত্বরতরা ফলে ভাঙ্গন থেকে রক্ষা হচ্ছেনা। এছাড়াও অনেকে জানান, বিক্রি করা মালামাল চড়া দামে বিক্রি করলেও কাগজে কলমে তা কমিয়ে পকেট ভরাচ্ছেন দায়িত্বরতরা এছাড়াও গোপনেও বিক্রি করা হচ্ছে ইটসহ বিভিন্ন সামগ্রী। মেনেজিং কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান বলেন, স্কুল বন্ধ থাকায় যা মালামাল বিক্রি হয়েছে সেই বিষয় তিনি জানেননা। কথা হলে মেনেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, সবকিছু লিখিত আছে। লুটপাটের কথা অস্বীকার করে অধ্যক্ষ জহুরুল ইসলাম মন্ডল বলেন, রেজুলেশন করে কাজ করা হয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ তাহের আলী বলেন, বিদ্যালয়ের মালামাল বিক্রিও বিষয় তিনি অবগত নন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।