• সোম. অক্টো ১৮, ২০২১

করোনা পরবর্তী পর্যটন শিল্পকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ

সেপ্টে ৩০, ২০২১

প্রতিবছরের মতো এ বছরও বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশে যথাযথ মর্যাদায় বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হচ্ছে। বিশ্ব পর্যটন দিবসে এবারের প্রতিপাদ্য ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে পর্যটন’। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথকভাবে বাণী প্রদান করেছেন। 
রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেন, বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় পর্যটন আকর্ষণসমূহকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিকট তুলে ধরার প্রয়াসে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে যেতে হবে। বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পের বিকাশের সম্ভাবনা খুবই উজ্জ্বল। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিতে হবে। একইসাথে বিশ্ব দরবারে দেশের পর্যটন শিল্পকে কার্যকরভাবে তুলে ধরতে হবে।  
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বলেন, পর্যটন শিল্প বর্তমান বিশ্বে শ্রমঘন এবং সর্ববৃহৎ শিল্প হিসেবে স্বীকৃত। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে দারিদ্র্য দূরীকরণ ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নসহ দেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য পর্যটনের গুরুত্ব অবশ্যম্ভাবী।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে পর্যটনের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থনৈতিক বিকাশের ক্ষেত্রে এই শিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। আবহমান গ্রাম বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রেখে যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দায়িত্বশীল পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনা করতে। আর এর সুফল যাতে স্থানীয় জনগোষ্ঠী ভোগ করতে পারে, সে লক্ষ্যে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার বিভিন্নমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। 
পর্যটন দিবসের উৎপত্তিঃ ১৯৭০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের পর্যটন শাখার বার্ষিক সম্মেলনের নাম, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য পুনর্মূল্যায়ন করা হয়। তখন থেকে এর নাম ‘বিশ্ব পর্যটন সংস্থা’ (ইউএনডব্লিউটিও) করার বিষয়ে সদস্যরা একমত হয়। নতুন নামে ১৯৭৪ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু করে সংস্থাটি।
১৯৮০ সাল থেকে প্রতিবছর ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপিত হচ্ছে। এর লক্ষ্য পর্যটনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পর্যটনের অবদান সম্পর্কে অবহিত করা। 
পর্যটন দিবসের কর্মসূচিঃ পর্যটন দিবস উপলক্ষে সোমবার দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে পর্যটন করপোরেশন। সকাল ৯টায় শেরেবাংলা নগরের পর্যটন ভবনে কুকিং শো’র আয়োজন করেছে তারা। এ ছাড়া ভ্রমণপিপাসুদের জন্যে দেশের পর্যটন হোটেল-মোটেলগুলোতে একদিনের জন্য ৩০ শতাংশ ছাড় ঘোষণা করেছে পর্যটন করপোরেশন। 
সকাল সাড়ে ৯টায় পর্যটন ভবনে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। এছাড়াও বিশেষ এই দিনটিতে দেশের পর্যটনের বিকাশে ঘোড়ার গাড়ির র‌্যালির আয়োজন করা হয়েছে। 
এছাড়া, বাদ্যযন্ত্রসহ ২০টি সুসজ্জিত রিকশার একটি র‌্যালি রাজধানীর গুলশান-বারিধারা কূটনৈতিক এলাকায় বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে প্রচারণা চালায়। দেশের প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পর্যটন অংশীজনদের নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজনও করা হয়। 
দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে আরও নানা আয়োজনের পাশাপাশি আগামী ২ অক্টোবর নড়াইল জেলায় জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের আয়োজনে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেছেন, জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থা ১৯৮০ সাল থেকে প্রতিবছর ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস পালন করছে। আমরাও দিবসটি একযোগে পালন করছি। এই দিবসের লক্ষ্য হচ্ছে, বিশ্ববাসীকে পর্যটনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও জাতীয় অর্থনীতিতে পর্যটনের অবদান সম্পর্কে অবহিত করা।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বের পর্যটন শিল্প কোভিড-১৯ মহামারির এই সময়ে একটি বিশেষ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কোভিড-১৯ এর কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পগুলোর একটি পর্যটন শিল্প। বাংলাদেশও বৈশ্বিক এই পরিস্থিতির বাইরে নয়। এই মহামারির কারণে দীর্ঘদিন আমাদের পর্যটন স্পট ও এই শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে রাখতে হয়েছিল। গতবছর এই সময়ে সংক্রমণের হার বেশি থাকায় বিশ্ব পর্যটন দিবসের সব কর্মসূচি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আয়োজন করতে হয়েছিল। 
করোনা মহামারীতে পর্যটন শিল্পঃ করোনা মহামারীতে পর্যটন খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে এই শিল্প বিপর্যস্ত। গত বছরের এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত পর্যটনের বিভিন্ন মৌসুম থাকলেও সরকারি কড়াকড়ি এবং মানুষের আতঙ্কের কারণে পর্যটন স্পটগুলোয় মানুষের আনাগোনা দেখা যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে অনেকে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন।
জীবন জীবিকা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন পর্যটনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৭০% জনবল। সংখ্যার হিসেবে সেটা ৪০ লাখেরও বেশি। তারা রোজগারহীন অবস্থায় থাকায় তাদের ওপর নির্ভরশীল কমপক্ষে দেড় কোটি মানুষ কঠিন বিপদের মধ্যে আছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড।
এই বিপর্যয়কর অবস্থা কাটিয়ে উঠতে সরকারের বিশেষ মনোযোগের প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ- টোয়াবের পরিচালক মো. শাহেদুল্লাহ। 
পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, করোনাভাইরাসের কারণে বাংলাদেশে ভ্রমণ ও পর্যটন খাতে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। অপরদিকে প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেলস অ্যাসোসিয়েশনের রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প গতবছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হারিয়েছে। এই ক্ষতির পরিমাণ বর্তমানে অনেক। 
এমন পরিস্থিতিতে শিগগিরই পর্যটন স্পটগুলো সীমিত পরিসরে খুলে দেয়ার কথা জানিয়েছেন পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মহিবুল হক।
হোটেল, রেস্তোরাঁ বা বিনোদন স্পটগুলো কীভাবে পরিচালিত হবে, বিশেষ করে যারা সেবা নেবেন বা যারা সেবা দেবেন, তাদের আচরণ কেমন হবে সে ব্যাপারে একটি নীতিমালা প্রণয়নের কথাও জানান তিনি।
তবে এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা চাইলে ব্যাংকগুলো থেকে বন্ধকী ঋণ নিতে পারবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন সরকারের কাছে সহায়তার দাবি জানিয়ে আসলেও বাস্তবে কেউ সহজ শর্তে ঋণ নিতে পারছে না বলে অভিযোগ করেছেন টোয়াবের পরিচালক মো. শাহেদুল্লাহ।
তিনি বলেন, ‘যাদের ঋণের তেমন একটা প্রয়োজন নেই, তারা সহজেই ঋণ পাচ্ছে। অথচ পর্যটন খাতের ব্যবসায়ীদের পথে বসার দশা হয়েছে কিন্তু তারা ঋণ পাচ্ছে না। উল্টো পর্যটন খাতের ব্যবসায়ী দেখে ব্যক্তিগত ঋণও দেয়া হচ্ছে না।’
এমনটা চলতে থাকলে পর্যটন খাত ভেঙ্গে পড়বে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।।
বাজেটে নগন্য বরাদ্দঃ বিগত কয়েক মাস যাবত পর্যটন খাতে স্থবিরতা দেখা গেলেও সুনির্দিষ্ট কোন দিক নির্দেশনা আসেনি এবং সাম্প্রতিক বাজেটে এই খাতকে টিকিয়ে রাখার প্রচেষ্টা প্রতিফলিত হয়নি বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
২০২০-২১ অর্থবছরে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতে ৩ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
এবারে এই খাতে গত অর্থবছরের তুলনায় ২৬২ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানো হলেও সেটা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়।
এর মধ্যে বরাদ্দের প্রায় ৮০% ব্যয় ধরা হয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন খাত বাবদ। আর বাকি ৭২৫ কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হয়েছে পর্যটনের অন্যান্য খাতের জন্য। 
পর্যটন শিল্পকে ঢেলে সাজানোর প্রস্তুতিঃ ট্যুরিজম বোর্ডের একজন কর্মকর্তা জানান, করোনার পর সম্ভাবনার পর্যটন খাত নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো ও বেসরকারি পর্যটন ব্যবসায়ীরা পর্যটন শিল্পকে ঢেলে সাজানোর কথা ভাবছেন। করোনা দুর্যোগ শেষ হলে এ সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের একজন কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, আমাদের দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, গৌরবময় ইতিহাস ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্যসহ আমাদের যে বৈচিত্র্যময় পর্যটন সম্ভার রয়েছে, তা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সব পর্যটকের কাছে যথাযথ প্রচারণার মাধ্যমে আমাদের সম্ভাবনার পর্যটনকে তুলে ধরতে হবে। এ জন্যই নতুন করে নানান চিন্তা চলছে। এর বাস্তাবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ পর্যটন শিল্পের নতুন যুগে প্রবেশ করবে এবং এ খাতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ব্যাপক সম্ভাবনার সূচনার সাথে বাংলাদেশ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হবে। 
অপর এক কর্মকর্তা জানান, নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা ও এর আশপাশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে পর্যটকদের কাছে তুলে ধরার জন্য প্রতি সপ্তাহে উন্নত দেশের মতো ডাবল ডেকার পর্যটন বাসের মাধ্যমে এক দিনের মধ্যে ঢাকা ও এর আশপাশের পর্যটন আকর্ষণগুলো ঘুরে দেখার ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। পর্যটনে উন্নত দেশগুলোর সমকক্ষ হতে হলে আমাদের সুচিন্তিতভাবে কাজ করতে হবে। পর্যটকদের চাহিদাকে গুরুত্ব দিতে হবে। পর্যটক বৃদ্ধি বা হ্রাসের কারণ নির্ণয় করাও জরুরি। তাই নতুন পরিকল্পনায় সেই নির্দেশনাও থাকবে। এ ছাড়া পর্যটন উন্নয়নের সাথে আমাদের অনেক সেক্টরের উন্নয়ন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত।
এর বাইরেও পর্যটন উন্নয়ন হলে পরিবহন সেক্টর, হোটেল-মোটেল, রেস্টুরেন্ট, কারুপণ্য ইত্যাদি বিকশিত হবে। কর্মসংস্থান হবে বিপুল সংখ্যক মানুষের। 
পর্যটন মহাপরিকল্পনা তিনটি পর্যায়ে তৈরি হবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রথম পর্যায়ে বিশ্লেষণ করা হবে দেশের পর্যটন শিল্পের বর্তমান অবস্থা, এর শক্তি কতটুকু, দুর্বলতা কোথায়, সম্ভাবনা কেমন, কোন ধরনের সঙ্কট রয়েছে। দেশের পর্যটন উন্নয়নের জন্য সব পর্যটন আকর্ষণ ও পর্যটন সম্পর্কে চিহ্নিত করা হবে। তদুপরি বেসরকারি অংশীজনের সাথে বৈঠক করা হবে এবং মতামত নেয়া হবে।
দ্বিতীয় পর্যায়ে নির্ধারণ করা হবে বাংলাদেশের পর্যটনের ভিশন, মিশন, স্ট্র্যাটেজিক অবজেক্টিভস, প্রায়োরিটিস এবং লিংকেজ। এ পর্যায়ে বাংলাদেশের পর্যটন উন্নয়ন, প্রমোশন এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৩, ৫ এবং ১৫ বছর মেয়াদি স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান তৈরি করা হবে। 
তৃতীয় পর্যায়ে জোন বা এরিয়া নির্দিষ্ট করে অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হবে। প্রোডাক্ট উন্নয়নের পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও বিনিয়োগের কৌশল অন্তর্ভুক্ত করে কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত এবং বিপণন ও প্রমোশনাল কৌশল নির্ধারণ করা হবে।
তার মতে, পর্যটন শিল্পে বর্তমানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২৩ লাখ লোক কাজ করছে। এ শিল্পের বিকাশের সাথে সাথে এই সংখ্যা আরো বাড়বে। এ ছাড়া দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 
উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ কমার কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটন স্পটগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ পর্যটকেরা আগ্রহের সাথে বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ভ্রমণ করার কারণে ধীরে ধীরে দেশের পর্যটন শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। এতে গতি ফিরছে দেশের পর্যটন শিল্পে।  
তবে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের পর্যটন ব্যবসায়ীরা তাদের ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার জন্য সরকারের কাছে প্রণোদনা দাবি করেছেন। এই দাবি খাগড়াছড়ি  ও রাঙামাটির পর্যটন ব্যবসায়ীদেরও।