• মঙ্গল. অক্টো ১৯, ২০২১

ফুলবাড়ীতে ৮ মাসেও নির্মাণ হয়নি আশ্রয়ণ প্রকল্পের রাস্ত

সেপ্টে ২০, ২০২১

রবিউল ইসলাম বেলাল, ফুলবাড়ী
প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ৩৯টি ঘরের মধ্যে ২৬টি ঘর থাকে তালাবদ্ধ। হস্তান্তরের ৮ মাসেও নির্মাণ হয়নি যোগাযোগের রাস্তা। নির্মানের পর থেকেই পড়ে আছে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের সোনাইকাজি গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পটির রাস্তা। মোট ৩৯টি ঘর থাকলেও বসবাস করছেন মাত্র ১৩টি পরিবার। বাকি গুলো থাকে তালাবদ্ধ অবস্থায়। ক্ষেতের আইল দিয়ে যাতায়াতের রাস্তায় একটু বৃষ্টি হলেই তলিয়ে যায়। ভাসমান অবস্থায় পড়ে আছে আশ্রয়ণ প্রকল্পটি। গত ২৩ জানুয়ারী-২১ তারিখে বরাদ্দ পাওয়া ৩৯টি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এসব ঘর।
জানাগেছে, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে ১৬৫টি এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ১০৫ টি, মোট ২৭০ টি ভুমিহীন, আশ্রয়হীন ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের সোনাইকাজি গ্রামের (শেখ হাসিনা সেতুর পশ্চিম পার্শে) এক একর খাস জমিতে নির্মান করা হয় প্রকল্পের ৩৯টি ঘর। প্রতিটি ঘরের নির্মান ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লক্ষ ৭১ হাজার টাকা। দুটি’ রুম বারান্দা, বাথরুম ও রান্না ঘর সংযুক্ত রয়েছে। প্রতিটি ঘরে আলাদা আলাদা বিদ্যুত সংযোগ আছে। ১০টি ঘর মিলে ১টি নলকুপ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩৯টি ঘর আছে। সেখানে বসবাস করছেন ১৩টি পরিবার। প্রকল্পের (৭-নং) ঘরের বাসিন্দা আয়শা বেগম, (৮-নং) ঘরের বাসিন্দা এরশাদ আলী এবং (১৫-নং) ঘরের বাসিন্দা আবুল হোসেন জানান, ২৬টি পরিবারের কেউই এখানে থাকেনা। ১৪ নং ঘরের বাসিন্দা মমিনুলের পরিবর্তে থাকেন তাহের আলী ও ২০ নং ঘরের বাসিন্দা ছাইমনের পরিবর্তে ঘরে থাকেন রাশিদা বেগম। যার জমি টাকা পয়সা আছে তাদেরকে ঘর বরাদ্দ দিয়েছেন। যাদের জমি নাই তাদেরকে দেয়া হয়না। সঠিকভাবে তদন্ত করে ঘর গুলো দেয়া উচিত ছিলো বলে তারা মনে করেন। আর সরকারি অফিসাররা আসলে তালিকা দেখে ফোন করে, তখন চলে আসে। তাছাড়া এখানে থাকা যায়না, অনেক সমস্যা। আসা-যাওয়া করার রাস্তা নাই, অন্যের জমির আঁইল দিয়ে হাঁটলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। রাস্তায় কাটা পুতে রাখে জমির মালিকরা। বিদ্যুতের সংযোগ আছে, নলকূপের পানিতে আয়রন দূর্গন্ধযুক্ত।
সংশ্লিষ্ট সোনাইকাজি ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জমশেদ আলী বলেন, সেখানে যাওয়ার কোনো রাস্তা নাই। আমি দেখে আসছি কতোজন বসবাস করেন। ৩৯টি পরিবার থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র ১৩ জন। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট যারা তাদের বলেছি বহুবার কিন্তু তারা কর্নপাত করেননি।
শিমুলবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারি কর্মকর্তা জাহেদুল হকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, প্রকল্পে যারা বসবাস করেন তাদের তালিকা করা হচ্ছে। আর যারা নাই তাদের ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সবুজ কুমার গুপ্ত জানান, আমরা ঘরের চাবী, দলিলপত্র বুঝে দিয়েছি। এখন মানুষ না থাকলে আমরা কি করবো। তারপরও আমি গিয়ে দেখে আসবো।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন দাস জানান, আশ্রয়ন প্রকল্পে মোট ৩৯টি ঘর আছে, সেখানে কতোজন বসবাস করে আমি জানিনা। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তবে যোগাযোগের রাস্তাটি যতোদ্রুত সম্ভব করা হবে।