• শনি. জুন ১৯, ২০২১

ব্রহ্মপুত্রের বুকে সবুজের সমারহ; কৃষকের মুখে সুখের হাসি

মার্চ ৯, ২০২১

সাওরাত হোসেন সোহেল, চিলমারী:
ব্রহ্মপুত্র কখনো কাঁদায় কখনো ভেসে নেয় আবার কখনো দেখায় সুখের ছোয়া। বছর জুড়ে খেলায় লিপ্ত থাকে ব্রহ্মপুত্র। ভাঙ্গা গড়া জীবন নিয়ে চলমান মৌসুমে ব্রহ্মপুত্রের কোল জুড়ে ফসলের চাষে হাসি ফুটেছে মানুষের। দেখছে তারা সুখের স্বপ্ন। চলমান মৌসুমে ব্রহ্মপুত্র যেন আর্শীবাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি মৌসুমে ব্রহ্মপুত্রের বিস্তীর্ণ চরে এবার চাষ হয়েছে হয়েছে গম, ধান, চিনা, বাদাম, সরিষা, টমেটো, ভুট্টা, মাসকলাই, কাঁচা মরিচসহ বিভিন্ন ফসলের। নদী ভাঙ্গা বিপর্যস্ত মানুষের মুখে এখন সুখের হাসি। বর্ষা মৌসুমে রাক্ষুসী ব্রহ্মপুত্র বসত ভিটা কেড়ে নিলেও এখানকার উৎপাদিত ফসল তাদের শক্তি ও সাহস জুগিয়েছে। চরের যেদিকে তাকানো যায় শুধু ফসল আর ফসল। নানা ধরনের ফসল চরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে। একারণে তারা মুক্তি পায় ক্ষুধা ও দারিদ্র থেকে। নদী শুধু নিতে জানে না দিতেও জানে এই স্লোগান এখন তীরবর্তী মানুষের।
জানা গেছে, এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ নদ ব্রহ্মপুত্র। তিব্বতের পশ্চিমাঞ্চলে হিমালয় পর্বতমালার কৈলাসশৃঙ্গের কাছে জিমা ইয়ংজং হিমবাহে ব্রহ্মপুত্রের উৎপত্তি। এরপর ভারতের অরুণাচল ও আসাম সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে ব্রহ্মপুত্র। বাংলাদেশ সীমান্তে ঢুকে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গাইবান্ধার ওপর দিয়ে বৃহত্তর ময়মনসিংহে প্রবেশ করেছে। বর্ষাকালে নদ ভরাট হলেও ক’দিন পরেই আর তাতে পানি থাকে না। নদ শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়। নাব্য তো নেই-ই, উল্টো বিশাল চরের সৃষ্টি হয়। এখন ব্রহ্মপুত্রে চর আর চর। যেদিকে চোখ যায়, শুধু বালু আর বালু। এখন নদচাষিরা ব্রহ্মপুত্রের বুকে নানা জাতের ফল-ফসল চাষাবাদ করছে। দেখলে মনে হয়, নদ নয়, যেন ফসলের কোনো সবুজ মাঠ। সরকার ব্রহ্মপুত্রের ঐতিহ্য ফেরাতে এরই মধ্যে খনন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। খনন সঠিক ভাবে হলে নদীর তীরবর্তী মানুষসহ এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যে পরিবর্তন হওয়ার সাথে সাথে সুখের ছোয়া পাবে বলে আশা করছেন সচেতন মহল। দারিদ্র্যজয়ী নদী তীরের মানুষ এ বছর শীতের ফসল চাষ করে শত ভাগ সাফল্য পেয়েছে। ধান ও গমের বাম্পার ফলনের পর সরিষার ও ভুট্টার বাম্পার ফলনে তাদের চোখে মুখে ফুটে উঠেছে হাসির ঝিলিক। রাক্ষুসী ব্রহ্মপুত্র যেমন প্রতি বছর ভেঙ্গে ফেলছে বিস্তীর্ণ জনপথ, ফসলের মাঠ। সেই ব্রহ্মপুত্রের পলি জমিয়ে সেখানে সোনার ফসল ফলাতেও সমান ভূমিকা রাখছে। জেগে ওঠা এসব চরে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম শেষে ব্রহ্মপুত্র আর্শীবাদ হয়ে দেখা দেয় নদী পাড়ের মানুষের জীবনে। চরের পলি পড়া জমিতে গম, পাট, ভুট্টা, সরিষা, বাদাম ও বোরো সহ অন্যান্য ফসল আবাদের জন্য খুবই উপযোগী। নদের বিস্তীর্ন চরে এসব ফসল আবাদ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও পুঁজি পেলে এসব ফসল চাষের পরিধি সাথে লাভবান হবে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্তরা লোকশান পোষাতে মৌসুমের শুরুতেই আট ঘাট বেধে চরের জমিতে নিরলসভাবে শ্রম ব্যয় করেন। কৃষকের ঘামে আর শ্রমে বিভিন্ন ফসলের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে জেলা বা উপজেলার সাথে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় এখানকার উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্চে না কৃষকরা। চরের উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে স্ববলম্বী চরের অধিকাংশ কৃষক। তাদের ছেলে-মেয়েরা উচ্চ শিক্ষাও গ্রহণ করছেন। সংসার থেকে দুর হয়েছে অভাব-অনটন। এব্যাপারে কথা হলে উপজেলা কৃষি অফিসার কুমার প্রণয় দাস বলেন, চলতি মৌসুমে কৃষকরা সুখের স্বপ্ন বুনছে আর আমারাও তাদের বিভিন্ন ভাবে সহযোগী করছি।