• রবি. জানু ২৪, ২০২১

আওয়ামী লীগে প্রার্থিতা নিয়ে দলীয় কোন্দল চরমে ; বিদ্রোহী প্রার্থী ২

ডিসে ৫, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার:
কুড়িগ্রাম পৌরসভার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থিতা নিয়ে দলীয় কোন্দল চরমে উঠেছে। বিদ্রোহী প্রার্থীর মাঠ না ছাড়ার ঘোষণা ও দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে বিক্ষোভের কারণে এ উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। প্রার্থীদের সমর্থকদের মাঝে চলছে কাদা ছোড়াছুড়ি। কুৎসা রটনায় ফেসবুক ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় সবাই হতবাক। আ’লীগের অনৈক্যের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিএনপি প্রার্থী মাঠ চষে বেড়াচ্ছে। ফলে হাটে মাঠে ঘাটে ও চায়ের দোকান থেকে অফিস আদালত চত্বরেও একটিই আলোচনা দলীয় কোন্দল।
দলীয় সূত্রে জানাযায়, আগামী ২৮ ডিসেম্বর আসন্ন কুড়িগ্রাম পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক পৌর চেয়ারম্যান ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজিউল ইসলাম। তবে পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্জ মোস্তাফিজার রহমান সাজু ও বহিষ্কৃৃত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইদুল হাসান দুলালও মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। ৩ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বাছাইয়ে মোস্তাফিজার রহমান সাজুর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হলেও আপিল করেছেন তিনি।
শহরের খেজুরেরতল মোড় হয়ে কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাব পর্যন্ত আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী কাজিউল ইসলামের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে সাজুর সমর্থকরা। মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ও এলাকাবাসীর ব্যানারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে দাবি করা হয়, ঘোষিত প্রার্থী কাজিউল ইসলামের বাবা একজন রাজাকার। কাজেই তাঁর মনোনয়ন বাতিল করে স্বচ্ছ ইমেজের কাউকে মনোনয়ন দেয়া হোক।
অন্যদিকে কাজিউল ইসলামের সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব রয়েছে। তাদের দাবি, দলীয় নেত্রীর সিদ্ধান্ত অমান্য করে দলীয় প্রার্থীকে হারানোর ষড়যন্ত্র করছে দলেরই একটি গ্রুপ। এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজার রহমান সাজুর বড় ভাই পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি মো. রেজাউল করিম রাজু বলে প্রচার চালাচ্ছে আরেকটি গ্রুপ। এছাড়া তার মা জামায়াতের রোকন সদস্য এমন দাবি তাদের। এভাবে প্রার্থিতা নিয়ে বিরোধ ও কাদা ছোড়াছুড়িতে বিব্রত দলের সাধারণ নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
দলীয় সূত্র জানায়, বিগত কাউন্সিল ঘিরে কুড়িগ্রামে আওয়ামী লীগ দুটি ধারায় বিভক্ত হয়। একটি ধারার নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাফর আলী, অন্যটির নেতৃত্বে রয়েছেন সাধারণ সম্পাদক ও কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আমান উদ্দিন আহম্মেদ মঞ্জু। দুজনের মতানৈক্যের কারণে কাউন্সিলের প্রায় এক বছর পরেও এখনো একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। কুড়িগ্রাম পৌর নির্বাচনে দলের মনোনীত প্রার্থী কাজিউল ইসলাম জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলীর সমর্থক। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক আমান উদ্দিন মঞ্জুর সমর্থক মোস্তাফিজার রহমান সাজু।
এ বিষয়ে মোস্তাফিজার রহমান সাজু জানান, ‘রাজাকার পুত্র মনোনয়ন পেলেও কোনো দোষ নেই। অথচ আমার ভাই কোন আমলে বিএনপি করে ছেড়েছে, সেটাই বড় করে দেখা হচ্ছে। আমার ভাই এখন বিএনপি করে না। এছাড়া তার পৃথক সংসার। পরিবারের সবাই হজ¦ করেছি তাই মিথ্যা কথা জানিনা। আমার মনোনয়নপত্র অন্যায়ভাবে বাতিল করা হয়েছে। আপিলে আশা করি, প্রার্থিতা ফিরে পাব। দল নিশ্চয় সবকিছু বিবেচনা করবে। এরপর দলের হাই কমান্ড কোন সিদ্ধান্ত দিলে মেনে নিব।’
অন্যদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি চাষি এম এ করিম বলেন, ‘মানববন্ধনের উদ্যোক্তা সাজুর পরিবার বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ। মনোনয়ন না পেয়ে দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করার অর্থ হচ্ছে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করা। কাজিউল ইসলাম ১২ বছর ধরে পৌর কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে একবার দলের সমর্থনে নির্বাচনে অংশও নিয়েছেন। কাজেই হঠাৎ করে তাঁকে নিয়ে প্রশ্ন তোলা গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে আমি মনে করি।’
জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম টুকু বলেন, আওয়ামীলীগ মনোনিত পৌর মেয়র প্রার্থী কাজিউল ইসলামের পিতা সম্পর্কে যে সব কুৎসা রটনা করা হচ্ছে তার সত্যতা নেই। কাজিউল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরীক্ষিত নেতা।