• রবি. নভে ২৯, ২০২০

ফুলবাড়ীতে বেগুনে পচঁন কৃষকরা দুশ্চিন্তায়

নভে ২, ২০২০

ফুলবাড়ী প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার প্রান্তিক কৃষকরা সাধারণত সারা বছরেই আগাম বেগুন-শাক-সবজিসহ বিভিন্ন ধরণের ফলনের উপর আত্বনির্ভরশীল। যে সব কৃষকের নিজস্ব জমি নেই তারাও অন্যের জমি লিজ(বর্গা) নিয়ে বেগুন চাষসহ বিভিন্ন ফসল ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে সচ্ছল ভাবে জীবন-জীবীকা নির্বাহ করে আসছেন। এ বছরেও লাভের আশায় কৃষকরা আগাম বেগুন চাষ করেছেন। যাদের নিজস্ব জমি নেই তারাও মানুষের জমি লিজ (বর্গা) নিয়ে বেগুনসহ বিভিন্ন ধরণের ফসল লাগিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখাগেছে, উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কুরুষাফেরুষা জায়গিরটারী এলাকার কৃষক মো. আইয়ুব আলী ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা ধার-দেনা করে মানুষের জমি (বর্গা) নিয়ে দেড় বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেছেন। এক বিঘা জমির বেগুন খেতের ফল পচাঁ রোগ ও ঢলে পড়া রোগে বেগুন গাছ সম্পূর্ণ মরে যাচ্ছে। ওই এলাকার কৃষক মকবুল হোসেন, একরামুল হক, পচাঁ মিয়া, সফিকুল ইসলাম, এরশাদুল হক আমিনুল ইসলামসহ ৮ থেকে ১০ বিঘার বেগুন খেত ফল পচাঁ রোগ ও ঢলে পড়া রোগে বেগুণ গাছ মরে যাওয়ায় ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে কৃষকরা বড় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
কৃষক আইয়ুব আলী জানান, কৃষি অফিসের সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে জানালেও তিনি কোন প্রকার সু-পরামর্শ দেয়নি। পরে কিছু ঔষধ কোম্পানীর কাছে পরামর্শ নিয়ে এ পর্যন্ত ফল পচঁন ও ঢলে পড়া রোগে নাফা, ট্রাইসেক, টাচ বোরণ প্রøাস, মিম বোরণ, বায়োগ্রীম প্রøাস, ফ্লোরা স্প্রে করলেও খেত রক্ষা করতে পারিনি। তবে সিয়েন কীটনাশক ঔষধটি একটু কাজ করেছে। এ বছর বেগুনের দাম ভাল। প্রতি মন বিক্রি হচ্ছে ১৪’শ থেকে ১৫’শ টাকায়। কিন্তু বেগুন গাছ মরে যাওয়ায় এ বছর ব্যাপক ক্ষতি হলো বাহে! কিভাবে ধার-দেনা গুলো পরিশোধ করবো। সেই সাথে জমি কন্ট্রাকের টাকাই বা কিভাবে পরিশোধ করবো বাহে! তাই বড় দুচিন্তায় আছি বাহে !
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রশিদ জানান, বেগুন চাষে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষকদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকায় যথেষ্ট সাফল্য অর্জিত হয়েছে এবং অনেকেই স্বাবল্বী হয়েছেন। খরিপ-২ ও চলতি শীত মৌসুমে এ উপজেলায় এ পর্যন্ত ১১০ হেক্টর জমিতে কৃষকরা বেগুণ চাষ করেছেন। তবে ফল পঁচা রোগ ও ঢলে পড়া রোগে বেগুন গাছ মরে যাচ্ছে এ ব্যাপারে কোন কৃষক জানায়নি। আপনার মাধ্যমেই জানতে পারলাম। ওই এলাকায় যাওয়ার জন্য উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে পাঠাচ্ছি। প্রয়োজনে আমরা নিজেরাও যাবো। সেই সাথে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের কৃষি বিভাগ থেকে বিভিন্ন ধরণের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।