• মঙ্গল. অক্টো ২০, ২০২০

শেরপুর পৌরসভা নির্বাচনের আগাম হাওয়া

সেপ্টে ২১, ২০২০

নির্বাচনের মাঠে আলোচনার ঝড়: ১ ডজন মেয়র প্রার্থী

নির্বাচন কমিশনের পৌর নির্বাচনে চুড়ান্ত তফসিল ঘোষণা না হলেও চলতি বছরে পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এইরকম ধারণা নিয়ে উত্তর বঙ্গের প্রবেশ দ্বার বগুড়ার শেরপুর পৌর সভার নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ন্যাশনাল পিপুলস পার্টি (এনপিপি), ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ ও স্বতন্ত্র এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য মেয়র পদ প্রার্থীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে পৃথক পৃথক ভাবে পৌর শহরের বিভিন্ন মহল্লায় সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে প্রায় ১ ডজন প্রার্থী ভোট প্রার্থনায় নেমে পড়েছেন নির্বাচনী মাঠে। শুরু হয়েছে নির্বাচনি প্রচারনা। এ সকল প্রার্থীদের আগাম প্রচারনায় পৌর শহরের অলিগলিতে বিরাজ করছে এখন নির্বাচনী আমেজ।
জানা যায়, ঐতিহাসিক প্রাচীনতম শেরপুর পৌরসভা নির্বাচনে সম্ভাব্য অনেক প্রার্থীরা রঙ বেরঙের ফেস্টুন, ব্যানার ও পোস্টার ছাপিয়ে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের প্রার্থিতা জানান দেওয়ায় তাদের অতীত-বর্তমান ও ভবিষ্যত নিয়ে ভোটাদের মাঝে আলোচনার ঝড় বইছে। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের রীতি চালু হওয়ায় দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন অনেক মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। ইতোমধ্যে ক্ষমতাসীন দলের শক্তিশালী প্রার্থীরা মনোনয়ন বাগিয়ে নিতে কেন্দ্রীয় মুখি তদবির শুরু করেছেন।
ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের পাশাপাশি ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি থেকেও মেয়র পদ প্রার্থী হিসেবে একাধিক নেতার নাম লোকমুখে ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে এখনো দলীয়ভাবে কোনো প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ার বিষয়টি এখনও খোলাসা করা হয়নি। আসন্ন পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ৫ জন ও বিএনপির ৩ জন, জাতীয় পার্টির ১জন, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের ১জন, ন্যাশনাল পিপুলস পার্টির ১জন ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির ১ জন প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীরা বেশকিছু দিন ধরেই গনসংযোগে নেমে পড়েছেন ক্ষমতাসীন দলের বর্তমান মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আবদুস সাত্তার, শেরপুরের আওয়ামী রাজনীতিতে রাজপথের পরীক্ষিত মুজিবাদের্শের একজন ত্যাগী নেতা খানপুর ইউনিয়নের তিনবারের নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান ও তিনবার নির্বাচিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব আম্বীয়া এই প্রথম পৌর মেয়র পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী, সংগঠনের দুর্দিনে হাল ধরে থাকা বর্তমান প্রজন্মের কাছে পরিছন্ন রাজনৈতিক নেতা হিসাবে শক্তিশালী অবস্থানে থাকা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিল্পপতি আলহাজ্ব মো. সারওয়ার রহমান মিন্টু, বিগত নির্বাচনে তিন বার মেয়র পদে মনোনয়ন চেয়েও না পেয়ে চতুর্থ বার মনোনয়ন প্রত্যাশী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান কাউন্সিলর বদরুল ইসলাম পোদ্দার ববি, আরেক যুব নেতা তিন বার মেয়র পদে মনোনয়ন চেয়ে না পেয়ে চতুর্থ বার মনোনয়ন প্রত্যাশী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি তারিকুল ইসলাম তারেক।
অপরদিকে বিএনপি থেকে নির্বাচনকে সামনে রেখে বেশ কয়েকজন প্রার্থীর প্রচারনায় নেমেছেন। এদের মধ্যে একাধিক বার নির্বাচিত সাবেক মেয়র গণ মানুষের নেতা ও বিএনপির দুর্দিনের কাণ্ডারী আলহাজ্ব জানে আলম খোকা, সাবেক মেয়র স্বাধীন কুমার কুন্ডু, সাবেক কমিশনার শহিদুল ইসলাম তারা, জাতীয় পার্টির নুরুজ্জামান বারী মিথুন, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের আলহাজ্ব ইমরান কামাল খান ও ন্যাশনাল পিপুলস পার্টির আবুল হোসেন আকাশ, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির হরি শংকর সাহা মেয়র পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী বলে জানা যায়।
আগামী ডিসেম্বর মাসের শেষে অথবা জানুয়ারির প্রথম দিকেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে। ইতিমধ্যেই পৌর নির্বাচনকে ঘিরে শুরু হয়েছে এলাকার হাটবাজার, চায়ের দোকানে প্রার্থীদের যোগ্যতা ও ভালোমন্দ নিয়ে চলছে ভোটারদের মাঝে আলোচনা সমালোচনার ঝড়। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শক্তিশালী এবং একাধিক নতুন মুখ মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ায় পৌরবাসির মধ্যে এক ধরনের চমক সৃষ্টি হয়েছে। ভোটারদের ধারনা এই নির্বাচনে কে পাবেন দলীয় মনোনয়ন আর কে হবেন পৌর পিতা এ নিয়েই চলছে এখন হিসাব নিকাশ।