• বৃহঃ. অক্টো ২৯, ২০২০

পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিন

সেপ্টে ১৭, ২০২০

পেঁয়াজ নিয়ে ফের কারসাজি শুরু করেছে দেশের অসৎ ও অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা। ফলে একদিনে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। অতিবৃষ্টি ও বন্যায় সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় নিজ দেশের বাজারে দাম বৃদ্ধি ঠেকাতে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাইকারি বাজারে কেজিপ্রতি ২০ টাকা এবং খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। দেশি পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ১০০ টাকা এবং আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ৬০ টাকা। বাজারে কোনো ধরনের সরবরাহে সংকট নেই। তারপরও রাতারাতি কেন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাবে পেঁয়াজের দাম, এই প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে। প্রচুর আমদানি করা পেঁয়াজের মজুত রয়েছে। দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের মজুতও রয়েছে। সঙ্গত কারণেই ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।
এটা সত্য, সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে অতিবৃষ্টি ও বন্যা হওয়ায় ভারতের যে সব অঞ্চলে পেঁয়াজ উৎপাদন হতো সেখানে পেঁয়াজের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। যার কারণে পেঁয়াজের সরবরাহ কমায় ভারতের বাজারেই পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। যার কারণে ভারত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিজ দেশের জনগণের স্বার্থে। এর আগেও ভারত একই কাজ করেছিল। ফলে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম উঠেছিল কেজিপ্রতি ৩০০ টাকা। গরিব মানুষ তখন পেঁয়াজ খেতে পারত না। ব্যবসায়ীরা তখন দেশের সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছিল। এবারও তারা সেদিকে ধাবিত হতে চাচ্ছে। ইতোমধ্যে সরকার টিসিবির মাধ্যমে খোলা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি ভালো উদ্যোগ। তবে সবার পক্ষে লাইনে দাঁড়িয়ে এ পেঁয়াজ কেনা সম্ভব নয়। টিসিবির পক্ষে সম্ভব হবে না ৩০ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি করাও। সুতরাং দেশের সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে, অতি প্রয়োজনীয় এ পণ্যটির দাম নিয়ন্ত্রণে এখনই বাজারে অভিযান চালাতে হবে। নিতে হবে বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ।
অভিযোগ রয়েছে, অভিযানের ভয়ে অসাধু অতিমুনাফাখোর ব্যবসায়ীরা গুদাম থেকে পেঁয়াজের বস্তা লুকিয়ে ফেলেছে। মনে রাখতে হবে, ব্যবসায়ীদের কারসাজির কাছে দেশের সাধারণ মানুষ কেন বারবার জিম্মি হবে। বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, ব্যবসায়ীদের হীন ও নিষ্ঠুর মানসিকতার কোনো পরিবর্তন হলো না।
আমরা মনে করি, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মোবাইল টিম ও যাবসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা একযোগে পেঁয়াজের আড়ত-পাইকারি ও খুচরা বাজারে অভিযান চালাতে হবে। দাম কারসাজির অপরাধে জেল-জরিমানাসহ প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে হবে।
রসনাবিলাসের জন্য পেঁয়াজের গুরুত্ব অপরিসীম। রন্ধনশিল্পে পেঁয়াজ একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। প্রতি দিনের রান্নায় পেঁয়াজের জোগান জরুরি। এখনই যদি পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনা না যায় তা হলে আবারও বড় ধরনের জিম্মিদশায় পড়বে দেশের সাধারণ মানুষ। অতীতের বাজারকেন্দ্রিক সংস্কৃতি আমাদের তা-ই স্মরণ করিয়ে দেয়। কার্যকর ও পরিকল্পিত উদ্যোগই কেবল পারে অন্যান্য নিত্যপণ্যসহ পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে।