• বৃহঃ. অক্টো ২২, ২০২০

শেরপুরে গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে এনজিও কর্মকর্তা উধাও

সেপ্টে ১৪, ২০২০

ভবিষ্যৎ সঞ্চয়ের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষে সাধ্যমত সঞ্চয় রাখে সাধারণ মানুষ ব্যাংক, বীমা ও এনজিওতে। আর সঞ্চয়ের মাধ্যমে সাবলম্বী করার জন্য কতিপয় এনজিও গুলো প্রতারনা করার জন্য উৎসাহিতও করে সাধারণ মানুষদের। এইরূপ বগুড়ার শেরপুরের একতা উন্নয়ন সংস্থা নামের একটি এনজিও সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ের কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে গত রোববার উধাও হয়ে গেছে প্রতিষ্ঠানের কর্ণধর মানছুরুর রহমান। ফলে সঞ্চয়ের টাকা হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ভূক্তভোগী সমিতির সদস্যরা।
জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে একতা উন্নয়ন সংস্থা নামে একটি ঋণদান ও সঞ্চয় সমিতি কার্যালয় চালু হয় শেরপুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ডক্টরস কমপ্লেক্সের দ্বিতীয়তলায়। সরকারি কোনো নিবন্ধন না নিয়ে সদস্য ভর্তি ও তাদের কাছ থেকে সঞ্চয় সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেন সংগঠনের চেয়ারম্যান মানছুরুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী একই সংগঠনের সদস্য সচিব নাজনীন আকতার।
পরবর্তীতে মোটা অংকের মুনাফা ও ঋণ দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে ওই এনজিও প্রায় দুই শতাধিক গ্রাহক সংগ্রহ করে তাঁদের প্রত্যেকের নামে একাধিক সঞ্চয়ের বই খুলে প্রায় এক কোটি টাকা আদায় করেন। কিন্তু গ্রাহকদের ঋণ দেয়ার পরিবর্তে তাদের সঞ্চয়ের প্রায় কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছেন সংগঠনের চেয়ারম্যান মানছুরুর রহমান। তবে সমিতির সদস্য সচিব নাজনীন আকতার বাসায় অবস্থান করলেও তিনি অসুস্থ থাকার অজুহাত দেখিয়ে কারো সঙ্গে দেখা-সাক্ষাত করছেন না। এমনকি টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যাপারেও কোনো ভূমিকা নিচ্ছেন না তিনি।
সমিতির সদস্য সোহেল রানা জানান, তিনি একাই একাধিক বই খুলে ২লাখ ৮ হাজার ৭০০ টাকা সঞ্চয় জমা করেছেন। একইভাবে টুকু মিয়া, সামছুল হক, সাইফুল ইসলামসহ অনেকেই সদস্য হিসেবে সঞ্চয় জমা রেখেছেন। কিন্তু কেউ টাকা ফেরত পাননি। তাদের সবারই সঞ্চয়ের টাকা নিয়ে গত রোববার সন্ধ্যার দিকে উধাও হয়েছেন সংস্থার চেয়ারম্যান মানছুরুর রহমান।
এ বিষয়ে একতা উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান মানছুরুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পলাতক এবং ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য জানা যায়নি। তবে ওই সংগঠনের সদস্য সচিব নাজনীন আকতার তার স্বামী উধাও হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, সদস্যদের কিছুকিছু করে টাকা ফেরত দেয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সমিতির সব সদস্যদেরই সঞ্চয়ের টাকা ফেরত দেয়া হবে। তবে করোনার কারণে অর্থনৈতিকভাবে বিপযস্ত হওয়ায় সঞ্চয়ের টাকা ফেরত দিতে বিলম্ব হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ ব্যাপারে বগুড়ার শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, এই ঘটনার কথা শুনেছি। তবে সমিতির কোন সদস্য এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।