• বৃহঃ. অক্টো ২২, ২০২০

জামালপুরে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামীসহ ৬ জনের আদালতে আত্মসমর্পন

সেপ্টে ১৪, ২০২০

জামালপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে ভাতিজকে হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি চাচাসহ ৬ জন আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মামলার রায় ঘোষণার পর গত রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর)দুপুরে তারা আত্মসমর্পণ করেন।
ওইদিন জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি নিহত মোমিনের চাচা আনছার আলী প্রামানিক, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত অপর ৫ আসামি কলম প্রামানিক, শাহীন, সাইদুল, শাইবানু, শাবজান আত্মসমর্পণ করেন।
পরে তাদের জেল হাজতে প্রেরণের আদেশ দেন জেলা ও দায়রা জজ মো: জুলফিকার আলী খাঁন।
আসামী পক্ষের আইনজীবী মোকাম্মেল হক জানান, আসামীগনের অনুপস্থিতে মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হওয়ায় তারা ন্যায়বিচার পায়নি, যেহেতু মামলার রায় হয়েছে তাই আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আসামীগণ আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। উচ্চ আদালতে ন্যায়বিচারের জন্য আপিল করা হবে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিজ্ঞ পিপি নির্মল কান্তি ভদ্র বলেন, মোমিন হত্যা মামলার দন্ডপ্রাপ্ত সকল পলাতক আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে, আশা করছি আদালতের রায় বহাল থাকবে।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে জমি নিয়ে বিরোধের জেরধরে জামালপুর সদর উপজেলার কুমারগাতী এলাকার রইচ উদ্দিনের বড় ছেলে মমিনের সাথে তার আপন চাচা আনছার আলী ঝগড়া বাধে। ঝগড়ার একপর্যায়ে আনছার আলী তার ভাতিজা মমিনের মাথায় কুড়াল দিয়ে আঘাত করলে সে গুরুত্বর আহত হয়। পরে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইদিন পর মমিনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা রইচ উদ্দিন বাদি হয়ে তার ছোট ভাই আনছার আলীসহ মোট ৬ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ওই হত্যা মামলায় গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ১৩ বছর পর মামলায় ১১ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্যগ্রহন শেষে নিহত মমিনের চাচা আনছার আলীকে পেনেল কোর্ট ১৮৬০ এর ৩০২ ধারায় মৃত্যুদন্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদন্ড এবং অপর পাঁচ আসামীকে পেনেল কোর্ট ৩০২/৩৪ ধারায় যাবজ্জীবন কারাদ- এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ডের আদেশ দেন জেলা ও দায়রা জজ মো: জুলফিকার আলী খাঁন। মামলা শুরু হওয়ার সময় থেকে এতদিন মামলার সকল আসামি পলাতক ছিলেন।