• বৃহঃ. অক্টো ২২, ২০২০

নাগেশ্বরীতে পেটের ভাত যোগানোর স্বপ্ন কৃষকদের

সেপ্টে ১২, ২০২০

দফায় দফায় বন্যা আর অতি বৃষ্টিতে দিশেহারা পড়েছে কৃষকরা। সাথে করোনার প্রাদুর্ভাব। এমন নানা দুর্ভোগে এবারের আমন চাষ নিয়ে বেশ হতাশায় কাটছে কৃষকদের। সঠিক সময়ে আমন চারার রোপন করতে না পারায় এবারের ফলন কেমন হবে এনিয়ে দুঃশ্চিন্তারও কমতি নেই তাদের। তবে আপদ কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন তারা।
উপজেলার রায়গঞ্জ, নারায়ণপুর, নুনখাওয়া, বল্লভেরখাষ, কচাকাটা, বেরুবাড়ী, কালীগঞ্জ, বাসরডাঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নব উদ্যমে আমন চাষে ঝুকে পড়েছে কৃষকরা। তারা জানায় আগাম আমনের চারা রোপনের কথা থাকলেওে অতি বৃষ্টি আর বন্যার কারণে এ মৌসুমে সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ঢিলে তালেই চলছে এবারের রোপন কার্যক্রম। তবে শেষ বেলায় এসেও চরাঞ্চলের কৃষকরা আমন চাষে পুরোদমে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। নারী-পুরুষ মিলে সমান তালে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমনের চারা রোপন করছেন। তবে কৃষকরা জানায়, বন্যার কারণে এবার নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ বীজতলা নষ্ট হওয়ায় চারা সঙ্কটে পড়েছেন তারা। ফলে দূর দূরান্ত থেকে চরা দামে আমনের চারা সংগ্রহ করতে হচ্ছে তাদের। এতে করে বেশ ক্ষতির মুখেও পড়ছেন তারা। তারপরও কৃষি নির্ভর এসব অঞ্চলের কৃষকরা আমর চাষে স্বপ্ন বুনছেন। অন্তত পেটের খোরাক যোগাতে দিন রাত পরিশ্রম করছেন তারা। 
উপজেলার বেরুবাড়ী ইউনিয়নের চর বেরুবাড়ী এলাকার কৃষক জানায়, তারা কেউ রামখানা, বামনডাঙ্গা, রায়গঞ্জ, নেওয়াশী, সন্তোষপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আমনের চারা সংগ্রহ করেছেন। এতে করে পরিবহন খরচ এবং চারার দামও পড়ছে বেশি। অনেককেই চারার বোঝা মাথায় ও ঘারে ভাড় সাজিয়ে অতি কষ্টে চারা নিয়ে আসতে দেখা গেছে। তারপরও পরিবার পরিজনের পেটের ভাত যোগাতে আমন চাষে ঝুঁকে পড়েছেন তারা এদিকে অনেকেই বেশি দামে আমনের চারা কিনতে চাইলেও চারা পাচ্ছেন। এ নিয়ে বিাপকে পড়েছেন কৃষকরা। বেরুবাড়ী ইউনিয়নের বালিয়ারকুটি এলাকার কৃষক মশিউর রহমান, আবুল কালাম, নুরনবী মিয়া জানান, এবারের আমনের চারা রোপন করতে দ্বিগুণ খরচ হচ্ছে তাদের। নিজস্ব বিজতলায় চারা থাকলেও সেগুলো বন্যায় বিনষ্ট হয়ে গেছে। তাই পার্শ্ববতী শালমারা এলাকা থেকে বিঘা প্রতি ১৫শ টাকা দরে আমনের চারা কিনে এনেছেন।
চর রহমানের কুটির এলাকার মকবুল হোসেন, শমসের আলী বলেন, এমনিতেই চারা কিনতে লোকসান গুনতে হচ্ছে অপরদিকে এবার হালচাষ, কৃষি শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য খরচও পড়ছে বেশি। তারপরও পেটের তাগিদেই আবাদ না করে উপায় নেই তাদের।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজেন্দ্রনাথ রায় জানান, এ মৌসুমে ২২ একর জমিতে সরকারিভাবে বিআর ২২, ৩ বিনাশাইল, নাইজার শাইল জাতের ধান বীজ বপন করা হয়েছে। আমনের এসব চারা কৃষকদের মাঝে পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হচ্ছে। আর এ মৌসুমে আমনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ হাজার ৩শ ৭৫ হেক্টর জমিতে এবং এ পর্যন্ত ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে লক্ষমাত্রা অর্জিত হয়েছে। বাকীগুলো চারা রোপন চলমান রয়েছে।