• মঙ্গল. অক্টো ২০, ২০২০

জামালপুরে দীর্ঘ মেয়াদী বন্যায় কৃষকের ১ শত ৪০ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি

সেপ্টে ১২, ২০২০

জামালপুরে দীর্ঘ মেয়াদী বন্যায় কুষকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।কৃষকের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যায় করে বিভিন্ন ফসল চাষা আবাদ করে ছিল। কিন্তু এ বৎসর দীর্ঘ মেয়াদী বন্যায় ধান, পাট, আখ, ভুট্টা, শাক-সবজি রোপা আমন ধানের বীজতলা নষ্টা হয়ে সারা জেলার কৃষকের প্রায় ১ শ ৪০ কোটি টাকা ফসলের ক্ষতি হয়েছে জানিয়েছেন জেলা কৃষি বিভাগ। এদিকে বন্যার পানি কমার সাথে সাথেই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা তাদের ক্ষতি পুশিয়ে নিতে আবারও ঘুরে দাঁড়াতে রোপা আমন ধান রোপন করাসহ,তরিতরকারী শাকসবজির চাষাবাদ শুরু করে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
জেলা ত্রান ও পূর্ণবাসন অফিসের তথ্যমতে,এবারের দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় জেলার ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, মাদারগঞ্জ, মেলান্দহ, সরিষাবাড়ি, বকশিগঞ্জ ও জামালপুর সদরসহ মোট ৭টি উপজেলা এবং ৮টি পৌরসভার মোট ৬৮টি ইউনয়নের মধ্যে ৫৯ টি ইউনিয়ন বন্যার পানিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এতে সারা জেলার মোট ৬৭৭ টি গ্রামের ২লক্ষ ৪৮ হাজার ৬৩৪টি পরিবারের মোট ৯লক্ষ ৯৪হাজার ৭০৭জন লোক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ৬৬কিলোমিটার পাকা রাস্তা এবং ১৯৪ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা, ৫টি ছোট-বড় ব্রীজ-কালভাট, ৪টি বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ,২৬৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,৬৫৮টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ মেয়াদী বন্যায় এ জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অপর দিকে জামালপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য মতে, এ বছর দীর্ঘ মেয়াদী বন্যায় মোট ২৬ হাজার ২০৬ হেক্টর জমির আউশ, রোপা আমন বীজতলা,পাট, ভুট্টা, আখ, মরিচ, কলা, তিল, বাদাম শাকসবজিসহ অন্যান্য জমির ফসল বন্যার পানিতে তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তার মধ্যে ১৫ হাজার ৪৯২ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ এবং বাকি ১০হাজার ৭১৪ হেক্টর জমির ফসল আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে ২হাজার ৯২ হেক্টর জমির রোপা আমন বীজতলা, ৪ হাজার ২৮৮ হেক্টর জমির আউশ, ৭ হাজার ৪৪ হেক্টর পাট, ১ হাজার ৮৩৮ হেক্টর শাকসবজি, ১০ হেক্টর জমির ভুট্টাসহ মরিচ, আখ, কলা, তিল, বাদামের ফসল রয়েছে। তাতে সরকারি হিসাব অনুযায়ী সর্বমোট ১ লাখ ৯০ হাজার ২৭ জন কৃষকের প্রায় ১ শ ৪০ কোটি টাকা ফসল বন্যায় এ বছর ক্ষতি হয়েছে। তবে বেসরকারী বিভিন্ন জনের তথ্য মতে,এ জেলায় সরকারী হিসাবের চেয়ে দ্বিগুন না হলেও দেড় গুনের বেশী ক্ষতি হয়েছে বলে দাবী করেছেন।
এ বিষয়ে ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলি ইউনিয়নের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগি কৃষক আনোয়র, বদিউদজ্জামন,সিদ্দিক মন্ডল,সামছুল হক,আব্দুর রহমান জানান,উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন এবং ১টি পৌরসভার মধ্যে সরকারী ভাবে মাত্র ৫১২জন কৃষককে সামান্য কিছু রোপা আমন চাড়া, আর বেশীর ভাগ কৃষকদের শাক-সবজির বীজ দিয়ে বিদায় দেওয়া হয়েছে,তাও চাহিদার তোলনায় অপ্রতুল্য। 
এ বিষয়ে চিনাড়-লি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুস ছালাম বলেন, আমার ইউনিয়নে সরকারী ভাবে কৃষকদের মঝে রোপাআমন চাড়া বিতরণ করা হয়নি। তবে কিছু কৃষকের মঝে শাক-সবজির বীজ বিতরণ করা হয়েছে। এদিকে দেওয়নগঞ্জ উপজেলার চিকাজানী ইউনিয়নের আমান উল্ল্যাহ,জুলহাস আলীা,আব্দুল করিম,মজিদ সেখ বহাদুরাবাদ ইউনিয়নের মহসিন মোল্ল্যা তারা জানান,এবারের বন্যায় তাদের কষ্টার্জিত ফসল নষ্ট হয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। দীর্ঘ মেয়াদী বন্যায় রোপা-আমন চাড়া খুবই সংকট। এ পর্যন্ত সরকারি কোন সহযোগীতা তারা পাননি। তাই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দ্রুত সরকারি সহায়তার দাবী জানিয়েছেন কৃষকরা। অপর দিকে শত কষ্টের মাঝেও অনেক কৃষক নিজ উদ্যোগেই ঋণ করে ক্ষতি পুশিয়ে নিতে আবারও তারা নতুন করে চাষাবাদ শুরু করেছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক।আমন চারা রোপনের পাশাপাশ শাখ সবজি তরিতরকারি,মরিচের চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

এ ব্যাপারে জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ আমিনুল ইসলাম জানান, এ বছরের দীর্ঘ মেয়াদী বন্যায় সারা জেলায় কৃষকদের প্রায় ১ শত ৪০ কোটি টাকা ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৭২ শতাংশ জমিতে আমন চারা রোপন করা হয়েছে। নতুন করে বন্যা দেখা না দিলে আবারও কৃষকরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে বিশ্বাস করি।