• মঙ্গল. অক্টো ২০, ২০২০

কুড়িগ্রামে বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে আগাম রবিশষ্য পরিচর্চায় ব্যস্ত চাষীরা

সেপ্টে ১২, ২০২০

কুড়িগ্রামে বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে আগাম রবি শষ্য পরিচর্চায় ব্যস্ত হয়ে পরেছে সবজিচাষীরা। তৃতীয় দফা বন্যার ক্ষত কাটিয়ে উঠতে আবার নতুন করে সবুজ ফসল ফলাতে মাঠে নেমেছে তারা। জেলার অভ্যন্তরিণ চাহিদা মিটিয়ে বাইরের জেলায় রফতানী করা সবজিচাষীরা এবার বন্যায় ফসল হারিয়ে ফেলায় তার প্রভাব পরেছে বাজারগুলোতে। বাইরে থেকে আমদানি করা সবজির উচ্চমূল্যে নাভিশ্বাস অবস্থা সাধারণ মানুষের। এই অবস্থায় দেশীয় পরিচর্চায় বেড়ে ওঠা সবজির লকলক কান্ড আর সবুজ লতাপাতা দেখে মানুষের মুখে হাসি ফুঁটেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর তিনদফা বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। দীর্ঘস্থায়ী বন্যার ফলে মাঠে রোপনকৃত ধান, পাট, ভুট্টা, কাউন, চিনা, তিল ও মরিচসহ ১৭ হাজার হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণরুপে বিনষ্ট হয়। এতে ক্ষতির পরিমান দাঁড়িয়েছে ১৪০ কোটি টাকা। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কৃষি বিভাগ থেকে ইতোমধ্যে ২৭ হাজার ৭৬১ জন কৃষককে পর্যায়ক্রমে সবজিবীজ বিতরণ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় খরিপ-২ এর আওতায় মাঠে ফসল আবাদ হয়েছে ৪৯০ হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে মুলা ১২০ হেক্টর, লাউ ৭০ হেক্টর, পাটশাক ১৬০ হেক্টর ও লালশাক ১৪০ হেক্টর। এছাড়াও আগাম বন্যায় ক্ষতি কাটাতে শীতের আগেই আগাম বেগুনসহ অন্যান্য শাকসবজি লাগাচ্ছেন অনেক চাষীই।
সরজমিন বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, বিস্তির্ন মাঠে চলছে আগাম রবিশষ্য ফসলের সবুজ সমারোহ। সবজিখ্যাত কিছু কিছু এলাকার মাঠ জুড়ে রয়েছে বেগুন, লাউ ও বিভিন্ন শাকের কোমল লতাপাতা বেড়ে ওঠার হাতছানি। কোথাও কোথাও লাল সবুজের সমারোহে ভরে উঠেছে মাঠ। কেউ জংলা ঠিক করছেন। কেউ ব্যস্ত পরিচর্চায়। অনেকে লাউ তুলছেন হাঁটে তুলবেন বলে। এছাড়াও শীতকালিন বাঁধাকপি ও ফুলকপির চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন বেশ কয়েকজন চাষী। নিজেদের ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে এবং অধিক লাভের আশায় কোমড় বেঁধে মাঠে নেমেছেন তারা।
জেলার রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের বেগুন চাষি খলিল, আশরাফুল ও মইনুদ্দিন জানান, বাজারে বেগুনের চাহিদা বিবেচনা করে তারা প্রায় দেড় একর জায়গা জুড়ে বেগুন চাষ করছেন। তারা জানালেন,
প্রতি বিঘায় বেগুন রোপন করতে খরচ লাগে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। বেগুন ক্ষেতে রোগ মুক্ত ও আবহাওয়া অনুকুলসহ বেগুনের ভাল দাম থাকলে ৮০ হাজার টাকা থেকে ১ লক্ষ টাকা বিক্রি করা যাবে। যাবতীয় খরচ মিটিয়ে বিঘা প্রতি ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা আয় হয়। আর যে সব চাষির অন্যের জমি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকয় কন্ট্রাক নিয়ে বেগুনসহ অন্যন্য সবজি চাষাবাদ করেছেন। তারও যাবতীয় খরচ মিটিয়ে বিঘা প্রতি ৪০-৫০ হাজার টাকা আয় করতে পারেন। 
এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান প্রধান জানান, বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ ছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত ২৭হাজার ৭৬১জন কৃষকদের মাঝে সবজি বীজ বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।