• ডিসেম্বর ১, ২০২২ ৮:৩৫ পূর্বাহ্ণ

রাজারহাটে প্রভাবশালীদের দখলে ১৯টি সরকারি বিদ্যালয়ের ৬৬৯শতক জমি

সেপ্টে ২৭, ২০২২

প্রহলাদ মন্ডল সৈকত, রাজারহাট:
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে দলিলকৃত ৬৬৯শতক জমি জবর দখল করে রেখেছে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। দীর্ঘদিন ধরে অন্যের দখলে থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলি অসহায় হয়ে পড়েছে। আইনি জটিলতার কারণে ফিরে না পাওয়ায় দিন দিন সম্পত্তি হাত ছাড়া হয়ে যাচ্ছে। ফলে শিক্ষার শিক্ষা ও মেধার মান উন্নয়নে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজারহাট উপজেলায় ১২৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৯টি বিদ্যালয়ের নামে থাকা জমি স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে। বিদ্যালয় জন্মলগ্ন থেকে জমির খাজনা পরিশোধ রয়েছে। অথচ খাজনা দেয়া সত্ত্বেও বিদ্যালয়ের জমির রেকর্ড হয়েছে ব্যক্তির নামে। বিদ্যালয়ের জমি বেদখল থাকায় খেলাধুলার মাঠ হয়েছে সংকুচিত। পাশাপাশি বেদখল কিংবা অবৈধ ক্রয় বিক্রয়ের কারণে বিদ্যালয় ভবনের আশপাশে দোকানপাঠ, আধা পাকা ঘরবাড়ি, ক্লাবসহ বিভিন্ন নামে-বেনামে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কারণে পাঠদানে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ ওইসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণের। এতে করে নষ্ট হয়েছে শিক্ষার মনোরম পরিবেশ।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা গেছে, ঘড়িয়ালডাঙ্গা সপ্রাবির ১৯৪শতক, ডাংরারহাট সপ্রাবির ৬১শতক, সাকোয়া সপ্রাবির ৫১শতক, পুটিকাটা সপ্রাবির ৪৫ শতক, ফুলখাঁ সপ্রাবির ৪৩ শতক, নওদাবস সপ্রাবির ৪০শতক, হরিশ্বরতালুক সপ্রাবির ৩৩শতক, রাম হরি সপ্রাবির ৩০শতক, জয়দেব মালসাবাড়ী ৩০ শতক,নাজিম খান বালিকা সপ্রাবির ৩০শতক, সুখদেব সপ্রাবির ২৮শতক, গাবুর হেলান সপ্রাবির ২০ শতক, জোড়সয়ারহাট সপ্রাবির ১৯ শতক, মনঃশ্বর সপ্রাবির ১২শতক, বৈদ্যেরবাজার সপ্রাবির ১০শতক, বোতলারপাড় সপ্রাবির ৮শতক, তালতলা সপ্রাবির ৬শতক, খিতাব খাঁ সপ্রাবির ৫শতক, পুর্বদেবোত্তর ৪শতক জমি বেদখল আছে।
ডাংরারহাট সপ্রাবির প্রধান শিক্ষক মঞ্জুরে খোদা আকুল বলেন, আমার বিদ্যালয় দুই সিপ্টের ৬কক্ষ দরকার সেখানে আছে মাত্র ৩টি। জায়গার অভাবে বাচ্চা এ্যাসেমবিলি(শারিরিক কসরত) করাতে পারি না। বেদখল জমিতে বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় শিক্ষার মনোরম পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। আমি বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধারের জন্য কর্তৃপক্ষ বরাবর অভিযোগ দিয়েছি। আমি চাই বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধার করা হউক।
ফুলখাঁ সপ্রাবির প্রধান শিক্ষক শরীফা খাতুন বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের নামে থাকা বেদখল জমি উদ্ধার এখন সময়ের দাবি। আগের প্রধান শিক্ষক জমি উদ্ধারের জন্য অভিযোগ দিয়েছিলেন। এখন আমাদেরকে রেকর্ড কাটার মামলা দিতে হবে।
পুটিকাটা সপ্রাবির জমি ৪৫ শতক জমি বেদখল থাকলেও অভিযোগ করেন নাই বলে জানান প্রধান শিক্ষক মোখলেছুর রহমান।
রাজারহাট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আমরা বিদ্যালয়ের নামে থাকা জমি উদ্ধারের চেষ্টা করছি। অলরেডি ২টি বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধারের জন্য ল্যান্ড সার্ভেয়ারে মামলা দিয়েছি। শিক্ষকদের কাছে তথ্য সংগ্রহ করেছি। রেকড কারেকশনের মামলা দিতে হয়। অনেক আগে রেকড প্রকাশিত হয়েছে, এক বছরে মধ্যে হলে রেকড সার্ভেয়ার যাওয়া যায়। এখন নতুন নিয়ম করেছে, আগে রাজারহাটে মামলা দিতে হবে, তারপর ল্যান্ড সার্ভেয়ারে যেতে হয়। বিদ্যালয়ের নামে থাকা জমি উদ্ধারে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
এব্যাপারে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরে তাসনীম বলেন, যে সকল বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধারের অভিযোগ পেয়েছি, আমরা সেই সকল বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।