• সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২২ ৮:৫৮ পূর্বাহ্ণ

ভ্যানের চাকা ঘুরলেও, ঘোরেনি ভাগ্যের চাকা

আগ ১৬, ২০২১

ও ভাই, পা দিয়ে প্যাডেল মারতে খুব কষ্ট হয়। আর গরমকালে তো কষ্টের সীমা থাকে না। গাড়ি ধীরে ধীরে চলায় যাত্রীও তেমন উঠে না। সারাদিন রোদে পুড়ে-বৃষ্টিতে ভিজে যে টাকা আয় হয়, তা দিয়ে সংসার ঠিক মতো চলেনা। বুক ভরা ব্যাথা নিয়ে এ কথাগুলো বলেন,  ভ্যানচালক নুরজামাল প্রামানিক কালু।

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার কলকতি গ্রামের আযম প্রামানিকের ছোট ছেলে নুরজামাল। দীর্ঘ ২৫ বছর যাবত পা দিয়ে প্যাডেল মেরে ভ্যান গাড়ি চালান তিনি। ভ্যানের চাকা ঘুরলেও, আজও ঘোরেনি  তাঁর ভাগ্যের চাকা।  সামন্য আয় দিয়ে কোনমতো চলছে তাঁর জীবন-সংসার।

নুরজামালের বয়স এখন ৩৭ বছর। দুই সন্তানের জনক তিনি। মা ও স্ত্রীসহ তাঁর পরিবারের সদস্য সংখ্যা পাঁচজন। মেয়ে নুরনেছা পারভীন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। ছেলে সামিউল আলিমের বয়স সাত বছর। ও প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভাব-অনটনের সংসারে নুরজামাল স্বপ্ন দেখে তাঁর দুটি সন্তানকে নিয়ে। পড়া-লেখা শিখিয়ে মানুষ করবেন তাঁদের। কিন্তু সে স্বপ্ন পূরণ হবে কিনা জানেনা ভ্যান চালক নুরজামাল।

তাঁর সহায় সম্বল বলতে ২৫ বছর আগের পুরাতন একটি ভ্যান গাড়ি। মাঠে জমি নেই বললেই চলে। বসত ভিটেতে তাঁরা দুই ভাই পরিবার নিয়ে থাকেন। বড় ভাই বাবার দেখা শোনা আর ভরণপোষণ করেন। নুরজামালের সাথে থাকেন তাঁর মা।

পৌরশহরে বিভিন্ন সড়কে প্যাডেল মেরে ভ্যান গাড়ি চালাতে দেখা যায় নুরজামালকে। তাঁর সাথে কথা হলে তিনি জানান, সংসারের অস্বচ্ছতার কারণে পঞ্চম শ্রেণির বেশি পড়ালেখা এগোয়নি তাঁর। প্রায় ২৫ বছর আগে এনজিও থেকে ১৫০০ টাকা ঋণ নিয়ে একটা ভ্যান গাড়ি কেনেন তিনি। সেই  থেকেই শুরু হয় তাঁর জীবন-সংগ্রাম। প্রতিদিন সকালে নাওয়া-খাওয়া সেরে ভ্যান নিয়ে বের হন জীবিকার অন্বেষনে। গাড়ি চালিয়ে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা রোজগাড় হয় প্রতিদিন। কিন্তু পা দিয়ে প্যাডেল মেরে কুলিয়ে উঠতে পারেন না তিনি।

ভ্যানচালক নুরজামাল বলেন, তাঁর সাথের সবাই ব্যাটারি চালিত ভ্যান চালায়। তাঁরা ভাড়া পায় বেশি। প্যাডেল মেরে যেতে হয় বলে পরিচিত লোক ছাড়া তাঁর গাড়িতে যাত্রী তেমন উঠে না। অর্থাভাবে ব্যাটারি চালিত একটি ভ্যান গাড়ি কেনার সামর্থ্যও নেই তাঁর। ২৫ বছর আগের মেরামত করা পুরাতন সেই ভ্যান গাড়িটি এখনও  চালান নুরজামাল।