• জানুয়ারি ২৯, ২০২৩ ১২:১০ অপরাহ্ণ

ফুলবাড়ীতে পুরাতন রড দিয়ে রাস্তার ঢালাই কাজ করলেন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা

নভে ৩০, ২০২২

ফুলবাড়ী প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় অনেক বছরের পুরনো রড দিয়ে রাস্তার ঢালাই কাজ (আরসিসি) করলেন ইউনিয়ন পরিষদের কমিটির লোবজন। এলজি এসপির- ৩ প্রকল্পের ৮৫মিটার রাস্তার কাজ করা হয়েছে পুরনো (পুরাতন) রড দিয়ে। নতুন রড বরাদ্দ থাকলেও জরার্জীণ ও মরিচা ধরা রড রাস্তায় দিয়ে এ প্রকল্পের কাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। কাজ চলাকালিন সময় এলজি এসপির প্রকল্পের কোন প্রতিনিধি না থাকায় এ অনিয়মের সুযোগ নিয়েছেন তারা। তবে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্তের সত্যতা পাওয়ায় বরাদ্দের টাকা বাতিল করার জন্য সুপারিশ করেছেন।
জানা গেছে লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট (এলজিএসপি-৩) স’ানীয় সরকারকে সহায়তা ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ফুলবাড়ী বড়ভিটা ইউনিয়নে দুইটি প্রকল্প দেয়া হয়। এ প্রকল্পের বিপরীত সাড়ে ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেন এলজি এসপির- ৩ কর্তৃপক্ষ। তার মধ্যে বড়ভিটা ইউনিয়নের নওদাবশ গ্রামের ওমরের মোড় হতে মফিজুল ইসলামের বাড়ী যাওয়া রাস্তাটি এ প্রকল্পের আওতায় নেয়া হয়। প্রাক্কলন অনুযায়ী এ প্রকেল্প রড দিয়ে রাস্তার ঢালাই কাজের জন্য প্রায় ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কাজটি বাস্তবায়ন করেন ইউনিয়ন পরিষদের প্রকল্প কমিটির সদস্যরা। গত বৃহস্পতিবার পুরনো রড নিম্নমানের খোয়া ও সিমেন্ট দিয়ে রাস্তার কাজ করার সময় অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। কিন্তু কৌশলে রাস্তা নিমার্ণ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য ও রাজমিস্ত্রিও শ্রমিকরা কোন কিছু বুঝে উঠার আগে জনসাধারনকে জানিয়েছেন এ রাস্তায় নতুন কোন রড ধরা নেই। তাই ইচ্ছা করে রাস্তাটি দীর্ঘ সময় টিকসই করার জন্য পুরনো রড দিয়েই করা হচ্ছে । তার পরেও জনসাধারন পুরনো রডের ছবি তুলে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেন। এতে ধরা খায় রাস্তা নির্মাণকারী কমিটি।
ওই এলাকার সাহেব আলী ও মল্লিক হোসেন জানান, পুরনো রড দিয়ে রাস্তার ঢালাই কাজ করার সময় প্রশ্ন করা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন নতুন রড ধরা নেই। ইচ্ছা করে রাস্তাটি টিকসই করার জন্য পুরনো রড ছিল তা দিয়ে রাস্তার কাজ করা হয়েছে।
এ প্রকেল্প কমিটির আহবায়কও বড়ভিটা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মমিনুল ইসলাম জানান, পুরনো রড দিয়ে রাস্তার ঢালাই কাজ করা হয়নি। তবে ৭/৮ মাস আগে রড কেনা ছিল। একটু মরিচা ধরেছে। তদন্ত টিম রাস্তা খুড়ে সে গুলো পেয়েছে।
কুড়িগ্রামে দায়িত্বরত এলজি এসপির- ৩ প্রতিনিধি ফারুক আহাম্মেদ জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে নিমার্ণকৃত রাস্তায় যাওয়া হয়েছে। রাস্তাটি খুড়ে দেখার পর পুরনো রড পাওয়া গেছে। সে জন্য ওই রাস্তার রডের বরাদ্দ প্রায় দেড় লাখ টাকা প্রাক্কলনে ধরা ছিল , সে টাকা বাতিল করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন দাস জানান নিমার্নকৃত রাস্তায় লোক পাঠানো হয়েছে। তদন্ত রির্পোট পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেয়া হবে।