• নভেম্বর ২৯, ২০২২ ১১:৪৯ অপরাহ্ণ

জামালপুরে এবার পাটের মুল্য পেয়ে কৃষকেরা খুশী

সেপ্টে ১৪, ২০২০

চলতি বছর জামালপুরে আগাম ও দীর্ঘ মেয়াদী বন্যায় পাটের উৎপাদন ভাল না হলেও ভাল মুল্য পেয়ে পাট চাষীরা অত্যান্ত খুশী। এ জেলায় দোয়াশ মাটি এবং আবহাওয়া দিগ বিবেচনায় দেশী,তোষা,কেনাফ ও মেষ্টা পাট উৎপাদন হয়ে থাকে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সুত্রে জানাযায়,জেলায় চলতি বছর এবার পাট চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৯ হাজার ১৫০ হেক্টর জমি। কিন্তু এ বছর আগাম বন্যায় ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৬ শত ৭৪ হেক্টর জমির পাট। বন্যায় ক্ষতির পরিমান বাদ দিয়ে সারা জেলায় অবশিষ্ট কর্তনকৃত পাটের জমির পরিমান ২৪ হাজার ৪৭৬ হেক্টর জমির পাট উৎপাদন হয়েছে। এতে করে জেলায় পাটের মোট উৎপাদন হয়েছে ৪০ হাজার ৯৯৭ মেঃ টন।
কৃষকেরা তাদের এসব পাট কর্তন করে পানিতে পঁচিয়ে রোদে শুকিয়ে বাজারে বিক্রি শুরু করছেন। সরকারী ভাবে পাটের মুল্যে নির্ধারণ না করলেও ইতোমধ্যে জেলা বিভিন্ন হাটবাজারে ফরিয়াদের কাছে পাট চাষিরা তাদের উৎপাদিত পাট বিক্রি করতে শুরু করেছেন। মেলান্দহ উপজেলার শ্যমপুর ইউপির পাট বিক্রেতা ফরিদুল হক, আক্কাস আলী ও আলমাছ আলী জানান, বাজারে পাটের মূল্য ভালই আছে। এবার বাজারে নিন্মমানের পাট বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২হাজার ২শ টাকায় এবং ভাল পাট মণ প্রতি ২৪’শ থেকে ২৫’শ টাকায় বিক্রি করা যাচ্ছে। একই কথা জানালেন ইসলামপুর উপজেলার কুলকান্দি ইউনিয়নের কৃষক ও পাট বিক্রেতা আমীর উদ্দিন, সুরুজ মিয়া ও জব্বার আলী।
এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের পাট মার্কেটিং কর্মকর্তা মো.হাবিল উদ্দিন বলেন, চলতি বছর কৃষকেরা পাটের ভাল মূল্য পাচ্ছেন তবে এ জেলায় কাঁচা পাট বিক্রি হচ্ছে না।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ আধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো: আমিনুল ইসলাম বলেন, চলতি বছর জেলায় ভয়াবহ বন্যায় পাটের বেশ ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, এবারের বন্যা জেলায় ৪ হাজার ৬৭৪ হেক্টর জমির পাট ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। কারণ বন্যা শুরু হবে শুনে কৃষকরা পাটের বয়স পূর্ণ হওয়ার ১৫ থেকে ২০ দিন আগেই ক্ষেত থেকে পাট কেটে ফেলেছে। যার ফলে পাটের ওজন কম হয়েছে। তাই এবার পাটের আশানুরোপ ফলন হচ্ছে না বলে তিনি জানান।
অপর দিকে পাট ব্যাবসায়ী,গুদাম মালিক (আরতদার) তারা বলেন,গত বছরের পাট বিক্রির প্রচুর টাকা এখনও বকেয়া পরে রয়েছে। সে টাকা আমরা এখনও পাইনি। তাই আমরা টাকার অভাবে পাট কিনতে পারছিনা। তারপরও পাট কেনার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে তারা জানিয়েছেন।