• ডিসেম্বর ১, ২০২২ ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ

কুড়িগ্রামে আওয়ামী লীগ নেতার ছেলের পরিবর্তে আদালতে হাজিরা দিতে এসে গ্রেফতার একজন

অক্টো ২৪, ২০২২

স্টাফ রিপোর্টার:
কুড়িগ্রামে মাত্র ৮শ টাকা মজুরির সাথে বাড়তি সামান্য টাকার লোভে পড়ে আওয়ামী লীগ নেতার ছেলের পরিবর্তে আদালতে হাজিরা দিতে এসে একজন গ্রেফতার হয়েছেন জয়নাল নামে এক দিনমজুর। সোমবার দুপুরে কুড়িগ্রাম চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক সুমন আলীর রৌমারী আমলী আদালতে বালু উত্তোলন মামলায় আতিকুর রহমানের হাজিরা দিতে এসে আটক হন তিনি।
জানা যায়, কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক সুরুজ্জামাল, তার সন্তানরাসহ নদ-নদীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছেন। গতবছর ব্রহ্মপুত্র নদের বামতীরের ধনারচর চরের গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করার অপরাধে আওয়ামী লীগ নেতা সুরুজ্জামাল মিয়ার দুই ছেলে আতিকুর রহমান ও আজিজুর রহমানসহ ৪২জন ড্রেজার মালিকের বিরুদ্ধে কুড়িগ্রাম রৌমারী আমলী আদালত স্ব-প্রণোদিত হয়ে একটি আদেশ জারি করেন। এই মামলা তদন্তের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেয় আদালত। তদন্ত করে পুলিশ ঘটনার সত্যতা পেয়ে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। এরপর আদালত তাদের বিরুদ্ধে গত বছর ২৫আগষ্ট গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। সেই মামলায় ৪২জনের মধ্যে ৩৫জন আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেন। বাকি আসামীরা পলাতক রয়েছেন।
চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের পেশকার আব্দুস সামাদ জানান, সোমবার ২৪ অক্টোবর বালু উত্তোলন মামলায় সুরুজ্জামালসহ অন্যান্য আসামীদের আদালতে হাজিরার তারিখ ধার্য ছিল। আসামীদের মধ্যে ২২জন উপস্থিত ছিলেন। তার মধ্যে আসামী আতিকুর রহমানের পরিবর্তে জয়নাল আবেদীন নামে এক বালু শ্রমিক আদালতে হাজিরা দিতে আসেন। বিষয়টি বিচারকের নজরে আসলে জয়নাল আবেদীনকে আটক করা হয়। এই ঘটনায় রাষ্ট্রপক্ষ বাদী হয়ে দুইজনকে আসামী করে ২৯/২২ একটি মিস কেস দায়ের করেন। জয়নাল আবেদীনকে এই মামলায় গ্রেফতার এবং অপর আসামী আতিকুর রহমানকে পলাতক দেখানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামীকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। এছাড়াও ২০২১সালের ১জানুয়ারি মামলায় আসামী আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
অন্যের বদলি হাজিরা দিতে আসা আসামী জয়নাল আবেদীন স্বীকার করে বলেন, আতিকুর রহমানের পরিবর্তে তিনি এই মামলায় হাজিরা দিতে এসেছেন। প্রায় ৩বছর ধরে তিনি আতিকুর রহমান পরিবারের সাথে ৮শ টাকা মজুরিতে বালু উত্তোলনে বালু শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। মামলায় হাজিরা দিতে আসার সময় তাকে যাতায়াত খরচ দিয়েছে এবং হাজিরা দিয়ে গেলে ৮শ টাকা মজুরিসহ বাড়তি কিছু টাকা দেবার চুক্তি হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ওই এলাকায় অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধে ২০২০সালের ১০ সেপ্টেম্বর মাসে উপজেলার সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) গোলাম ফেরদৌস এবং জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)র যৌথ উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় আওয়ামী লীগ নেতা সুরুজ্জামাল ও তার ছেলে আজিজুর রহমান, আব্দুল আলীম এসময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপর চড়াও হয়। এই ঘটনার সময় তিনজনকেই ভ্রাম্যমাণ আদালত আটক করে এবং বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত পাইপ ধ্বংস করেন। পরে ড্রেজার মেশিন না চালানোর শর্তে মুচলেকা দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত থেকে ছাড়া পান।