• ডিসেম্বর ২, ২০২২ ১০:৩২ অপরাহ্ণ

একাউন্টে বিকাশ কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ কুড়িগ্রামে চরম ভোগান্তিতে উপকারভোগীরা

জুন ৯, ২০২২

সরকারের দেয়া বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতাপ্রাপ্ত উপকারভোগীদের অর্থ নিজের কিংবা পরিবারের কারো মোবাইল একাউন্টে বিকাশের মাধ্যমে প্রদান করা হয় দীর্ঘদিন থেকে। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে কুড়িগ্রামের উপকারভোগীরা মোবাইলের বিকাশের অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় ভাতা উত্তোলন করতে পারছেন না। মোবাইলে নতুন করে বিকাশের পিন চালু করে ভাতা উত্তোলন করতে হবে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এসব ভাতাপ্রাপ্ত উপকারভোগী।
এমতাবস্থায় জেলা শহরের দূর দুরান্ত থেকে আসা এসব ভাতাপ্রাপ্ত উপকারভোগীরা প্রতিদিন কুড়িগ্রামে বিকাশের কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের সামনে এসে ঘুরছেন। কিন্তু কাস্টমার কেয়ারে জনবল কম থাকায় ও অনেক গ্রাহকের একইসাথে চাপ সামাল দিতে না পারায় অ্যাকাউন্ট সচল করতে তাদের অত্যন্ত হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে প্রচন্ড ভিড়। গত দুই তিনদিন ধরে এসে অনেকেই ভিড়ের কারণে অ্যাকাউন্ট সচল করতে না পেরে কষ্ট নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন বাড়িতে। কিন্তু কাস্টমার কেয়ারের সেবা প্রদানকারীরা জানান, অনেক চেষ্টা করেও সামাল দেয়া যাচ্ছেনা। কারণ একইসাথে শতশত মানুষ সেবা নিতে এসেছেন। তবে এ অবস্থা দু’একদিনের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে জানায় কুড়িগ্রামের কাস্টমার সার্ভিস অফিস। জেলা শহরের পৌরসভার কলেজ মোড় এলাকায় কাস্টমার কেয়ারে গ্রামীণ ফোন, বাংলা লিংকসহ বিভিন্ন মোবাইল একাউন্টে এসব ভাতা উত্তোলনকারী উপকারভোগী প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত পর্যন্ত আসছেন। কিন্তু অনেকের অ্যাকাউন্ট সচল হচ্ছে আবার অধিকাংশই সচল করতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন।
সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের জোতগোবর্ধণ এলাকার ৬৮ বছরোর্ধ বয়স্ক ভাতাপ্রাপ্ত মমিনুল ইসলাম জানান, টাকা মোবাইলে ঢুকেছে কিন্তু তুলতে পারছিনা। কী যে সমস্যা হয়েছে তা ঠিক করতে এসেছি। কাষ্টমার কেয়ারে আসি আর ঘুরে যাই। এ ছাড়া মাঠের পাড় এলাকার প্রতিবন্ধী ভাতাপ্রাপ্ত হুজুর আলী জানান, এত কষ্ট করিয়া টাকা তুলতে পারছিনা। কাস্টমার কেয়ার ঠিক করি দিচ্ছেনা। একই অবস্থা বিধবা শাহানা বেওয়া, বয়স্ক আছিয়া খাতুন, ছকিনা খাতুন, বকিয়ৎ উল্ল্যাহসহ আরো শত শত উপকারভোগীর।
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রামে বিকাশের কাস্টমার কেয়ারের সার্ভিস অফিসার আতাউর রহমান জানান, গত তিন চারদিনে আমাদের জনবল সমস্যা, অন্যদিকে এত বেশি লোকের একসাথে ভিড় হওয়ায় এসব সুফলভোগীর অ্যাকাউন্ট সচল করতে সার্ভিস দিতে সমস্যা হচ্ছে। এখন দুইজন জনবল নতুন করে দিয়েছে আশা করি দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।