• ডিসেম্বর ১, ২০২২ ৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ

উত্তাল ব্রহ্মপুত্রে আটকা পড়া যাত্রীসহ নৌকা তীরে ফিরলো ১১ ঘন্টা পর

অক্টো ২৫, ২০২২

চিলমারী প্রতিনিধি:
বৈরী আবহাওয়ায় উত্তাল ব্রহ্মপুত্রে নৌকাসহ আটকে পড়া ৮০ জন যাত্রী ৬ঘন্টা পর উদ্ধার তীরে ফিরতে নদে কাটলো ১১ ঘন্টা। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো যাত্রীরা। চিলমারী বজড়াদিয়ার খাতা চরে ব্রহ্মপুত্রে ৮০ জন যাত্রী নিয়ে আটকে পড়েছিল নৌকা। একই সময় উপজেলার অষ্টমীরচর ডাটিয়ারচরে আটকে পড়া যাত্রীসহ নৌকা উদ্ধার করে নেয়া হয় নিরাপদ স্থানে।
জানা গেছে, সোমবার বিকালে রৌমারী থেকে যাত্রীবাহী একটি নৌকা প্রায় ৭০জন যাত্রী নিয়ে চিলমারীর উদ্দেশে রওনা দেয়। পথিমধ্যে আবহাওয়া পরিবর্তন হয়ে ঝড়ো হাওয়া শুরু হলে ব্রহ্মপুত্র উত্তাল রুপ ধারন করে। এসময় নৌকার চালক নিয়ন্ত্রন হারালে উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নের বজড়াদিয়ারখাতা চরের পাশ্বে থাকা একটি ডুবো চরে আটকে পড়ে সন্ধা ৬টার দিকে। চারদিক থেকে ঢেউ ও নদ উত্তাল থাকায় নৌকার যাত্রীরা উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন স্থানে সাহায্য চায়। রাতে বৈরী আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মহিবুল ইসলাম, অফিসার ইনচার্জ আতিকুর রহমান রমনা ঘাট এলাকায় যান এবং একটি উদ্ধারকারী নৌকা পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। বৈরি আবহাওয়ায় ও উত্তাল ব্রহ্মপুত্রে জীবন বাজি রেখে রাত্রি ৯টার দিকে ঘাট ইজারাদার শহিদুল্লাহ কায়সার উদ্ধারকারী একটি টিম নিয়ে ঘটনাস্থানে পৌঁছান রাত ১০টায় এবং তাদের উদ্ধার করে নদের একটি নিরাপদ স্থানে নেয়া হয়। ব্রহ্মপুত্র উত্তাল থাকায় রাতে রমনা ঘাটে তীরে নেয়া সম্ভব না হওয়ায় ব্রহ্মপুত্র শান্ত হলে সকাল সাড়ে ৫টায় রমনা ঘাটে নিরাপদে নৌকাসহ যাত্রীদের পৌঁছানো হয়। এর আগেই আর একটি নৌকা যাত্রীসহ একই স্থানে আটকে পড়েছিল স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নিয়েছিলেন নিরাপদ স্থানে। এদিকে অপর আর একটি নৌকা উপজেলার অষ্টমীরচর ইউনিয়নের ডাটিয়ারচরে আটকে পড়েছিল পরে নির্বাহী অফিসারের নির্দেশনায় স্থানীয় ইউপি সদস্য ও কিছু যুবক তাদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নেন। বজড়া দিয়ার খাতা এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা ইউছুর আলী বলেন, ইউএনও স্যারে ফোন পেয়ে রাতেই ইউপি সদস্য রফিকুলসহ কয়েকজন স্থানীয় যুবককে সাথে নিয়ে আটকে পড়া যাত্রীদের খোজ নেয়া হয় এবং শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। মঙ্গলবার সকালে নৌকাটি যাত্রী নিয়ে নিরাপদে রমনা ঘাটে আসলে সকলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। এসময় যাত্রীরা বলেন, ভেবে ছিলাম মনে হয় আর ফিরবো না, আল্লাহ রহমতে প্রশাসনের সহযোগীতা ও ঘাট ইজাদারসহ স্থানীয়দের সহযোগীতায় রাতভর নৌকা থেকে নিরাপদে তীরে ফিরে স্বস্তি পেলাম। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.মাহবুবুর রহমান জানান, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এর প্রভাবে সোমবার দুপুর থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। রৌমারী থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী নৌকাটি বৈরি আবহাওয়ার কারনে ডুবো চরে আটকা পড়েছিল। নৌকাটি আজ সকালে যাত্রীদের নিয়ে নিরাপদে ঘাটে পৌঁছেছে।